মাঠে ও মাঠের বাইরে সময়টা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ভালো যাচ্ছিল না। মাঠে খুব ভালো পারফরম্যান্স করতে পারছিলেন না। আবার একটার পর একটা ইনজুরিতে ভুগছিলেন। অবশেষে ইনজুরির সেই ছোবল পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছেন বলেই বলছিলেন। এখন সামনে টেস্টের চ্যালেঞ্জ হাতছানি দিচ্ছে। সেটা নিয়েই ভাবতে থাকা রিয়াদ বলছিলেন, অনেকদিন পর টেস্টে ফেরার সম্ভাবনায় তিনি রোমাঞ্চিত।
নিজের ফিটনেস নিয়ে বলতে গিয়ে রিয়াদ বলছিলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমার কাফ মাসলে যে ব্যথাটা ছিল সেটা অনেক কম। এখন শতভাগ ফিট আমি। আজকে থেকে বোলিংও শুরু করব।’
প্রায় ছয় মাস পর টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রিয়াদ বলছিলেন, এটা নিয়ে সবাইকে সেরা প্রস্তুতি নিতে হবে। টেস্টে মানিয়ে নেওয়া সম্পর্কে তিনি বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় যে, এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়ের ওপর। কে কিভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে সেটার ওপর নির্ভর করে। একেক জনের প্রস্তুতি একেক রকম থাকে। আমার মনে হয়, সেদিক থেকে আমাদের সবাইকেই চিন্তা করতে হবে যে, আমি আমার সম্ভাব্য সেরা উপায়ে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি—শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে।’
টেস্টের প্রসঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেরও কথা এলো। রিয়াদ বলছিলেন, এই চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশের জন্য বড়ো একটা সুযোগ নিজেদের প্রমাণের জন্য, ‘আমার কাছে মনে হয় এটি আমাদের জন্য অনেক বড়ো একটি সুযোগ। আমার কাছে মনে হয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেস্ট ক্রিকেটকে আরো নতুনভাবে উপস্থাপনা দিয়েছে এবং আমরা সবাই এর জন্য বেশ উদ্গ্রীব। আমাদের সামনে অনেকগুলো টেস্ট ম্যাচ আছে। যেভাবে আমরা ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি আশা করি টেস্টেও তেমনটি নিয়ে আসতে পারব। ’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে কেন রিয়াদ বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, সেটাও ব্যাখ্যা করে বললেন। দলের এই সিনিয়র অলরাউন্ডার বলছিলেন, ‘যেহেতু এটি একটি প্রতিযোগিতার মতো। এখানে সবার সঙ্গে সবাই খেলবে হোম এবং অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে। যেটা আগেই বললাম যে, এই নতুন চিন্তা ধারাটা টেস্ট ক্রিকেটে আরেকটি নতুন রূপ। নতুন জিনিসের ব্যাপারে সবাই অনেক রোমাঞ্চিত থাকে যে, এই জিনিসটি কেমন হবে বা এটির ফলাফল কেমন হবে সেটি জানার জন্য বা দেখার জন্য। সেক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয়, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এটি ভালো একটি দিক।’
জাতীয় দলের নতুন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলছিলেন, তিনি চান তরুণরা এসে সিনিয়রদের চাপ দিক। এই ব্যাপারটাকে খুব ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন রিয়াদ। তিনি বলছিলেন, ‘আমি খুব ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি বিষয়টি। কারণ আপনি যাদের নাম বললেন সাইফ, আফিফ ওরা কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ভালো করছে। তারা সকলেই অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়। আমি জানি না আপনি কোনদিক থেকে কি বুঝাতে চেয়েছেন তবে আমি সবসময় হেলদি কম্পিটিশনকে স্বাগত জানাই। কারণ হেলদি কম্পিটিশন না থাকলে ক্রিকেটে কখনো উন্নতি হবে না আর আমাদেরও উন্নতি হবে না। তাই আমি প্রতিযোগিতা সবসময় উপভোগ করি আর এটা আমাদের সবার জন্যই ভালো।’
