বাইরেও নজর দিতে চান ডমিঙ্গো

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২০:১৭

বাংলাদেশে আসা বিদেশি কোচদের নিয়ে একটা বড়ো অভিযোগ থাকে, এরা জাতীয় দলের বাইরে কিছু ভাবতে রাজি হন না। এমনকি সিরিজের খেলা না থাকলে ঘরোয়া ক্রিকেট দেখার জন্যও অপেক্ষা করেন না তারা। এই জায়গাটা বদল আনতে চেয়েছিল এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

এখন পর্যন্ত কথাবার্তায় যা মনে হচ্ছে, বিসিবির সেই চাওয়াটা পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে নতুন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছেন, তিনি কেবল জাতীয় দল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চান না। তিনি জাতীয় দলের বাইরেও নিজের নজরটা রাখতে চান।

নিজের ইতিহাস দিয়েই ডমিঙ্গো বলছিলেন, তার কাজের ধরনটাই এমন, ‘আমি অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে কাজ করে তবে জাতীয় দলে এসেছি। আমার মনে হয়, আমি খেলোয়াড় হয়ে উঠে আসার প্রক্রিয়াটা নিয়ে আগ্রহী একজন মানুষ। অবশ্যই জাতীয় দল আমার অগ্রাধিকারে থাকবে, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই সঙ্গে আমি জাতীয় দলের ঠিক নিচে কী হচ্ছে, সেটাতে নজর দিতে চাই। শেষ পর্যন্ত আপনার হাতে থাকা খেলোয়াড়রা ওখানেই যাবে এবং ওখান থেকেই উঠে আসবে নতুন খেলোয়াড়। খেলোয়াড়রা কোত্থেকে উঠে আসছে, এটাতে যদি আমি একটু ভূমিকা রাখতে পারি, তাহলে ব্যাপারটা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড়ো ভূমিকা রাখবে।’

পাইপলাইনে নজর রেখে কী খুঁজতে চান, সেটাও ডমিঙ্গো মোটামুটি পরিষ্কার। তিনি বলছিলেন, সিনিয়রদের ওপর চাপ তৈরি করার মতো খেলোয়াড় চান, ‘বাংলাদেশ দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে। কিন্তু কিছু তরুণ খেলোয়াড়ের উঠে আসা এবং সিনিয়র খেলোয়াড়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে তাদের (তরুণদের) কিছু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া দরকার। কারণ, শেষ পর্যন্ত ওখানেই দরকার ওদেরকে।’

বাংলাদেশ যুবদলের খোঁজখবর রাখছেন। তাতে নতুন কোচের মনে হচ্ছে, পাইপলাইনে প্রতিভার অন্তত অভাব নেই, ‘আমি সত্যিই মনে করি, হাই পারফরম্যান্সের কোচ ও ম্যানেজারের সঙ্গে আমার কাজ করা উচিত। এটা জানা দরকার যে, এরপর সেরা খেলোয়াড় কারা। (বাংলাদেশ) অনূর্ধ্ব-১৯ দল ইংল্যান্ডকে চারবার হারিয়েছে এর মধ্যে এবং ভারতকে খুব চেপে ধরতে পেরেছি। তার মানে অবশ্যই আমাদের এই নিচের সারিতে কিছু খুব প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। যাদেরকে জাতীয় দলের কাছাকাছি নিয়ে আসা দরকার।’

বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ এই কোচ বলছিলেন, তিনি শ্রীলঙ্কায় খারাপ ফল নিয়ে ভাবিত নন, ‘শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্স নিয়ে আমি ভাবিত নই। কারণ, ওটা ছিল বিশ্বকাপের পরই একটা সিরিজ। আমি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যে পারফরম্যান্স দেখেছি, তাতে আমি যথেষ্ট রোমাঞ্চিত। বেশ কয়েকটা খেলা ছিল, যেখানে তারা খুব কাছাকাছি গেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা দেখুন। একটা রানআউট মিস খেলাটাকে কেড়ে নিল। এর ফলেই সম্ভবত বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে পারল না।’

সবমিলে বাংলাদেশকে ডমিঙ্গো ভবিষ্যতের এক ক্রিকেট-শক্তি হিসেবেই দেখতে পাচ্ছেন, ‘আপনি বিশ্বের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন, গত পাঁচ বা ছয় বছরে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা দলটা হলো বাংলাদেশ। তাদের অবিশ্বাস্য একটা সমর্থক গোষ্ঠী আছে। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের পাওয়ার হাউস হয়ে ওঠার সব উপাদান তৈরি আছে।’