রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মোট ভোটের চেয়ে ১১টি ভোট বেশি পেয়েছেন। অতিরিক্ত ভোটের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর ভোটও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির অভিযোগ, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা থেকে সরে এসেছে সরকার। এর প্রতিবাদে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
তবে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, প্রথমে আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২০৮ জন মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়েছেন।
দলটির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৬ জন। এ হিসাবে বিএনপির নিজস্ব ভোট পড়েছে ২৪৪টি।
এর বাইরে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে মির্জা ফখরুল পেয়েছেন তিনটি ভোট। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে পেয়েছেন সাতটি ভোট। এছাড়া ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যও তাকে ভোট দিয়েছেন।
সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমিও চিন্তা করছিলাম যে, এত ভোট আসল কোথা থেকে। পরে খুঁজে বের করলাম। দেখা যায়, স্বতন্ত্র সবাই ভোট দিয়েছেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সাতটি ভোটের পাশাপাশি হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের ভোটও পেয়েছেন মির্জা ফখরুল। এছাড়া জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে পেয়েছেন তিনটি ভোট। সব মিলিয়ে বিএনপির নিজস্ব ২৪৪ ভোটের সঙ্গে আরও ১১ ভোট যোগ হয়েছে। অর্থাৎ ২৪৪, জোটসঙ্গীদের তিন, স্বতন্ত্রদের সাত এবং হাতপাখার একটি ভোট—সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের মোট ভোট ২৫৫টি।’

