ইরানের ওপর নতুন করে আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে সহায়তা করে বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করে—এমন যেকোনো দেশকে ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে ইরান বলেছে এগুলো ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞায় টার্গেট করা হয়েছে সাধারণ ইরানিদের। যা অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।
ইরান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এ পর্যন্ত সমাধানের কোনো পথ পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখনো জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ আমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করছি! এটি হবে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও একঘরে অবস্থা।’
ট্রাম্প হুমকি দিয়ে আরও বলেন, ‘যে দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ দেবে, সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’
এর প্রেক্ষিতে ইরানি মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইরান তাদের স্বাধীনতা, জাতীয় অখণ্ডতা এবং স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এসব নিষেধাজ্ঞা এগুলো দুর্বল করতে পারবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে এলো মার্কিনিদের আরেক রণতরী
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ও এটির সঙ্গে থাকা অন্যান্য জাহাজ। দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে আব্রাহাম লিঙ্কন নামে আরেকটি রণতরী। তবে এতদিন ধরে সমুদ্রে থাকায় এটির নাবিক ও ক্রুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এমন পরিস্থিতিতে আব্রাহাম লিঙ্কনের জায়গায় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় আসার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউনিট সেন্টকম এক বিবৃতিতে এ নিয়ে বলেছে, ‘গতকাল মার্কিন সেন্টকম অঞ্চলে পৌঁছানোর পর পূর্বনির্ধারিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে “জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ”।’

