ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩২

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও স্থানীয় রিকশা গ্যারেজ মালিক জাহিদ হাসান বুলবুল (৪৫) হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। অবরোধ চলাকালে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অনতিবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল পৌনে ১১টার দিকে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

এসময় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় জাহিদ হাসান বুলবুল (৪৫) নামে এক রিকশা গ্যারেজ মালিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত বুলবুল সালেহনগর শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের রিকশা গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনায় তিনি বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সিফাতকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় বুলবুলকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে পেয়ে সিফাত ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফের মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বন্দর থানার ওসি জামাল হোসেন বলেন, প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এসএইচ