ওয়াকফ এস্টেটের মাজার, মসজিদ ও দোকানপাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ৩০

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৫

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম চকের বাজার এলাকায় মাজার ও মসজিদের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুম্মার নামাজের সময় হজরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘদিন ধরে হজরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার, মসজিদ এবং এর অধীনে থাকা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি দোকানকোঠার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিলাম শেখপাড়ার স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদে উপস্থিত হলে এ নিয়ে পুনরায় বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যে এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে দুই পক্ষই ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

সংবাদ পেয়ে মোগলাবাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তারা হামলার মুখে পড়ে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেলের আঘাতে মোগলাবাজার থানার ওসিসহ সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন। একই সময়ে সংঘর্ষে লিপ্ত দুই পক্ষের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘর্ষের কারণে চণ্ডীপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যা স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

পরবর্তীতে মোগলাবাজার থানা-পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, জুম্মার নামাজের সময় হঠাৎ করেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএম