আইফোনের কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে এক তরুণের সঙ্গে তার বাবার তীব্র বাদানুবাদ হয়, যা শেষ পর্যন্ত এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়। ফোনের ক্যামেরা চালু থাকতেই ওই তরুণ ও তার বাবা পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যায় এবং স্বামী ও ছেলেকে নিচে পড়ে যেতে দেখে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন ওই তরুণের মা। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের পুলিশের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনটিভির খবরে এ ঘটনা জানা যায়।
পুলিশ জানায়, নিহত তরুণের নাম কুনাল। তিনি একটি আইফোন কিনেছিলেন। তবে ফোনটির ইএমআই পরিশোধের জন্য পরিবারের কাছে টাকা চাইছিলেন। সর্বশেষ কিস্তির টাকা দেওয়া নিয়ে বাবার সঙ্গে তার তীব্র বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিসগাঁও এলাকার একটি পাহাড়ে চলে যান কুনাল।
খবর পেয়ে তার বাবা মুরলিধর চন্দগুড়ে ও মা সঙ্গীতা সেখানে যান। স্থানীয় কয়েকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। কুনালকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কুনাল যখন ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল, তখন এক ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘তোমার মায়ের জন্য বাঁচো।’ জবাবে সে বলে, ‘না, আমাকে মরতেই হবে। এটাই একমাত্র পথ।’
স্থানীয় সাবেক সরপঞ্চ সঞ্জয় যাদব জানান, তারা কুনালকে অনেক অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত না নেন। তাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে এবং মায়ের দিকে তাকাতেও বলা হয়েছিল।
এরপর দুপুর ১টার দিকে কুনালকে বোঝাতে তার বাবা পাহাড়ের কিনারায় উঠে তাকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনেই ভারসাম্য হারিয়ে নিচের গিরিখাতে পড়ে যান। স্বামী ও ছেলেকে পড়ে যেতে দেখে কিছুক্ষণ পর সঙ্গীতাও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

