প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল যুক্তরাজ্যে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটিতে তাদের সরকারি নিরাপত্তা পাওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি মাসেই তারা যুক্তরাজ্যে ফিরছেন। তাদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে আগামী সেপ্টেম্বরে সেখানে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হবে।
হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্যে ফিরে লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়িতে উঠবেন। বাড়িটি রাজপরিবারের কোনো বাসভবন নয়।
এ দম্পতি ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্যে তাদের সরকারি নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের নিরাপত্তার খরচ নিজেরাই বহন করছেন তাঁরা।
তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের যে অভিজাত এলাকায় এত দিন বসবাস করেছেন, সেখানে তাদের বিদায়ের খবর নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায়নি বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, ক্যালিফোর্নিয়ার অভিজাত এলাকা মন্টেসিটোয় থাকেন হ্যারি ও মেগান। সেখানে হ্যারি–মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার খবর খুব একটা সাড়া ফেলেনি।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলোয় হ্যারি–মেগানের ফেরার খবর ফলাও করে প্রকাশ করা হচ্ছে। অথচ মন্টেসিটোর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ছিলেন নির্বিকার।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে মন্টেসিটোয়
২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান হ্যারি ও মেগান। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর–পশ্চিমে মন্টেসিটোয় বসবাস শুরু করেন।
এলাকাটির বাসিন্দাদের কেউ কেউ মনে করেন, মন্টেসিটোয় এত এত তারকাখ্যাত মানুষের ভিড়ে হ্যারি–মেগান হয়তো কিছুটা আড়ালে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু এখন সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তাঁরা সেখান থেকে চলে যাচ্ছেন।
মন্টেসিটোর বাসিন্দা ও ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সী রায়ান সুজা বলেন, ‘তারা যেখানে থাকতে চান, থাকুন। এটা তাদের ব্যাপার।’
প্রতিবেশীরা আসলে তাদের কতটা চিনতেন
মন্টেসিটোর রিভেন রক এলাকায় হ্যারি–মেগানের বাড়ির কাছেই থাকেন ৭২ বছর বয়সী জিনা পেনিনো। হাঁটতে বের হলে তিনি প্রায়ই হ্যারি–মেগান ও তাদের সন্তানদের দেখতেন। কিন্তু তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন, এ কথা তিনি জানতেন না।
জিনা পেনিনো বলেন, ‘আসলে তাদের সঙ্গে আমাদের তেমন পরিচয় নেই। দেখা হলে তারা হাত নাড়েন, গাড়ি নিয়ে চলে যান, তারপর বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেন।’
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ছয় বছর ধরে হ্যারি–মেগানের জীবনটা অনেকটা এমনই ছিল—বিশ্বজুড়ে তাদের পরিচিতি থাকলেও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল খুবই কম।
হ্যারি–মেগানের কয়েক কোটি ডলারের বাড়িটি উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা। রয়েছে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত ফটক। আশপাশে থাকেন জেফ ব্রিজেস, রব লো, গিনেথ প্যালট্রো, অরল্যান্ডো ব্লুম, ক্যাটি পেরি, অপরাহ উইনফ্রেসহ আরও অনেক হলিউড তারকা।
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ তথ্যচিত্রের কিছু অংশও কাছের একটি বাড়িতে ধারণ করা হয়েছিল। নেটফ্লিক্সের তথ্য অনুযায়ী, তথ্যচিত্রটি ২ কোটি ৮০ লাখের বেশি পরিবার দেখেছিল।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে হ্যারি–মেগান তাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে ফিরলেও ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িটি হ্যারি–মেগান রেখে দেবেন। মেগানের গণমাধ্যমের কাজ এবং তার অনলাইন খাদ্যপণ্যের ব্যবসা যুক্তরাজ্য থেকে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আগামী বছর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে হ্যারির প্রতিষ্ঠিত ইনভিক্টাস গেমস অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে থেকে বিভিন্ন বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হবে। ইনভিক্টাস গেমস আহত, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সেনাসদস্য ও সাবেক সেনাদের জন্য আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
আগামী বছর হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠান হবে। যুক্তরাজ্যে ফিরলে মায়ের পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি থাকার সুযোগও পাবেন হ্যারি।

