চীন কি শক্তি প্রয়োগে যাচ্ছে?

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৭

হংকং সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে চীনের আধাসামরিক বাহিনীর বিশাল সমাবেশ ও অনুশীলন-অনেকের মাঝে এ ধারণা বদ্ধমূল করেছে যে তাহলে কী চীন সেখানে তাদের পেশিশক্তি ব্যবহার করতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এ ধরনের তত্পরতায় তেমন ধরনের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে হিসেবে যদি সেখানে সৈন্যবাহিনীও পাঠানো হয় তাহলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কেননা হংকংয়ের বিক্ষোভ নিয়ে চীনের সাম্প্রতিক আচরণ তেমন ধরনের ইঙ্গিতই বহন করছে। যদিও ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন যখন হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করে তখন হংকংয়ের ছোটোখাটো একটি সংবিধান তৈরি হয়েছিল। তাতে বলা হয়, জরুরি অবস্থা কিংবা যুদ্ধাবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেই চীন সে ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে হংকংকে অনুরোধ জানাতে হবে। তাই প্রশ্ন উঠেছে যে হংকংয়ের পরিস্থিতি কি আদৌ সে ধরনের দিকে যাচ্ছে?

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, হংকংয়ে চীনের যে পিপলস লিবারেশন আর্মির সৈন্যরা রয়েছে তাদেরকেও ব্যবহার করতে পারে বেইজিং। তাদের মতে, হংকংয়ের বিক্ষোভ কঠোরহস্তে দমনের জন্য এর আগে বহুবার চীনের তরফ থেকে বলা হয়েছিল। আর তার বাস্তবিক প্রমাণ চীনের শেনঝেও বে স্পোর্টস সেন্টারে বিশাল আধাসামরিক বাহিনীর সমাবেশ। সেদিন সেখানে অনেক সামরিক যান পার্কিং করা হয়। হংকংয়ে চীনা সেনা ঘাঁটির প্রধান ও পিপলস লিবারেশন আর্মির কমান্ডার চেন দাও জিয়াংয়ের মুখেও একই কথা শোনা গিয়েছিল। গত মাসে তিনি বলেছিলেন, হংকংয়ে যে বিক্ষোভ চলছে তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড়ো ধরনের হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেনঝেংয়ের স্টেডিয়ামে সেদিন শত শত চীনা পিপলস আর্মড পুলিশকে (পিএপি) সামরিক অনুশীলন করতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, শতাধিক সাঁজোয়া যানও দেখা যায় সেখানে। এই সামরিক মহড়াটি এমন সময়ে হচ্ছিল যখন হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের আন্দোলন তুঙ্গে ছিল। সে সময় হংকং বিমানবন্দরের প্রবেশপথ বন্ধ করে বিক্ষোভ করছিল আন্দোলনকারীরা। সন্দেহভাজন বন্দি প্রত্যার্পণ বিল বাতিলের দাবিতে গত মার্চ থেকে তারা এ বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভ থামাতে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বিলটি স্থগিত করেন। কিন্তু বিলটি পুরোপুরি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে তারা। সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের এ আন্দোলনকে চীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করে। এর মধ্য দিয়ে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে চীন বিভিন্ন অজুহাতে হংকংয়ের পরিস্থিতি হস্তক্ষেপের উপায় খুঁজছে। কেননা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হলেই তাদের হস্তক্ষেপ করার বৈধতা আসবে।

এদিকে চীনের এই বিশাল সামরিক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেনি। তারা এ ধরনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে বলেছেন, তাদের গোয়েন্দারা এটা নিশ্চিত হয়েছে যে, হংকং সীমান্ত জুড়ে সৈন্য সমাবেশ করেছে চীন। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জিনপিং এ ব্যাপারে আন্তরিক হলে খুব সহজেই এর একটা সমাধান হবে।