শেকৃবির সিরাজউদ্দৌলা হলে পানির সংকট ও চুরি, বাড়ছে মাদকের আড্ডা

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৪

সুপেয় পানির তীব্র সংকট, নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার না করা, ময়লা পানি সরবরাহ, ওয়াশরুমের ফিটিংস চুরি এবং অবাধে বহিরাগতদের প্রবেশ—এসব অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি হলে মাদকসেবীদের আনাগোনা ও আড্ডা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

প্রায় ১ হাজার ২০০ আবাসিক শিক্ষার্থীর এই হলে দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এতে হল প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ, হলে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও প্রশাসনের কাছ থেকে টেকসই কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।

পানি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে হলের ‘এ’ ব্লকের শিক্ষার্থী অপূর্ব বলেন, “এ ব্লকের পূর্ব দিকের বাম পাশের ওয়াশরুম থেকে দুটি ট্যাপ প্রায় ছয়-সাত মাস আগে চুরি হয়ে যায়। ঘটনার ১৫ দিন পর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। এরপর আরও তিন-চারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশের দুটি ওয়াশরুমে তিনটি শাওয়ারও নেই। সম্ভবত সেগুলোও চুরি হয়ে গেছে। এছাড়া রিডিং রুমের পানির ফিল্টারটিও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।”

একই হলের শিক্ষার্থী মেজবা বলেন, “আমাদের প্রধান সমস্যা খাবার পানি। দুই দিন পরপর ফিল্টার নষ্ট হয়ে যায়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ও ময়লা পানি আসে। পানি খাওয়ার উপযোগী থাকে না। এর ওপর বিভিন্ন ফ্লোর থেকে ট্যাপ, বেসিনসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। আজ যদি ওয়াশরুমের জিনিস চুরি হয়, কাল তো সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও চুরি হতে পারে। হলে দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।”

শুধু পানি ও চুরিই নয়, হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং মাদকসেবীদের আনাগোনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, “হলে প্রতিদিন অসংখ্য বহিরাগত প্রবেশ করছে। কিন্তু গেটে তাদের নাম বা প্রবেশের তথ্য সংরক্ষণের জন্য কোনো লেজার খাতা নেই। দিনদুপুরে যেমন বহিরাগতরা অবাধে ঘোরাফেরা করছে, তেমনি রাতের আঁধারে হলে মাদকসেবীদের আনাগোনা ও আড্ডা বহুগুণ বেড়ে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজ হলেই চলাচল করতে অনিরাপদ বোধ করছে। আমরা দ্রুত এই মাদকচক্র ও বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ চাই।”

বারবার সমস্যা জানানোর পরও সমাধান না পাওয়ায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর কিছুদিন প্রশাসন একটু নড়েচড়ে বসে। তখন পরিস্থিতি ঠিকঠাক চললেও এক মাস পর আবার আগের মতো সমস্যা শুরু হয়। আমরা আর সাময়িক আশ্বাস চাই না, স্থায়ী সমাধান চাই।”

দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, চুরি হওয়া ও নষ্ট ফিটিংস মেরামত এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

হলের সার্বিক অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফিরোজ মাহমুদ বলেন, “পানির সমস্যার মাত্রা অনুধাবন করে আমরা উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছি। তবে সেখান থেকে সমাধান না এলে প্রভোস্ট হিসেবে আমার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর এই হলে যে ফিল্টার দেওয়া হয়েছে, তার ধারণক্ষমতা অনেক কম। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যা হচ্ছে।”

হলের ফিটিংস চুরি, নিরাপত্তা ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হলের এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেয়নি। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

ইত্তেফাক/এএইচপি