ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল

উদ্বোধনের দেড় বছরেও নতুন ভবনে শুরু হয়নি কার্যক্রম

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৮

দেড় বছর আগে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের নতুন সাত তলা ভবনের উদ্বোধন হলেও এখন পর্যন্ত আনুষঙ্গিক কাজ শেষ না হওয়ায় ভবনটি হস্তান্তর হয়নি। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করণের জন্য এই ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।

এদিকে, নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় কোনোভাবেই রোগীদের চাপ সামলানো যাচ্ছে না। ১০০ বেডের হাসপাতালে প্রতিদিন থাকছে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী। আর বহিঃবিভাগে রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিত্সকরা।

রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেড না পেয়ে করিডোর বারান্দা-মেঝে ও সিঁড়ির ফাঁকে গাদাগাদি করে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে। তার ওপর ডাক্তার সংকট আর ওষুধ পর্যাপ্ত না পাওয়ায় দুর্ভোগ যেন চরমে উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সমস্যার কথা স্বীকার করে বলছেন, নতুন ভবন হাসপাতালের কাছে হস্তান্তর হলেই দুর্ভোগ কমবে।

সাত তলা এই ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি সাড়ে ৬৯ লাখ টাকা। দরপত্র চুক্তি অনুয়ায়ী ২০১৬ সালের জুন মাসে কাজ শেষ করে ভবনটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে নির্মাণকাজ। নতুন এ ভবনটি উদ্বোধনের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে কয়েক দফায় চিঠি দিলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজী এরফান এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আব্দুল মালেক বলছেন, নির্মাণকাজের সময় পুরনো ভবন অপসারণে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শেষ করতেও বিলম্ব হচ্ছে। মোটামুটি ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। এ মাসেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা রাখি।

আর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক বলছেন, নির্মাণকাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ অব্যাহত আছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য একাধিক পত্র দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারণে ভবনটিতে কার্যক্রম এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই ভবনটি গণপূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পাশের জেলা পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারী থেকে প্রতিদিন রোগী আসছে এ হাসপাতালে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে গুণগত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। আর শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের বারান্দা, মেঝে আর সিঁড়ির ফাঁকে শুয়ে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে।

রোগীদের অভিযোগ, চিকিত্সক না থাকায় তারা সেবা পাচ্ছে না এবং বেশির ভাগ ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। এছাড়াও ১০০ শয্যার জনবল ও চিকিত্সক দিয়ে ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি পরিচালিত হওয়ায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এসব সমস্যার স্বীকার করে সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নতুন ভবন নির্মাণ ও আড়াইশ শয্যার চিকিত্সক ও জনবল যোগদান করলেই রোগীদের দুর্ভোগ কমে আসবে।