দূতাবাসে হুমকি-চাঁদা দাবির ই-মেইল, ‘ভুয়া গ্রুপের কাজ’ বলছে ডিবি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৫

ঢাকার কয়েকটি দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে হুমকির ই-মেইল পাঠানোর ঘটনায় তদন্ত চলছে; দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের

ঢাকায় অবস্থিত কয়েকটি দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ই-মেইল পাঠিয়ে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে ‘ভুয়া গ্রুপের কাজ’ বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কিংবা সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

বিভিন্ন দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি গ্রুপের নাম ব্যবহার করে এসব ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্তে ওই গ্রুপটিকে ‘ভুয়া’ বলে মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ই-মেইলে যেসব বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সূত্র ধরে তিন-চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে জানান ডিবিপ্রধান।

ঠিক কতটি দূতাবাসে এ ধরনের হুমকির ই-মেইল পাঠানো হয়েছে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, তিন-চারটি দূতাবাসের পাশাপাশি সরকারি কয়েকটি দপ্তরেও চাঁদা দাবি করে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনাটি নিছক হয়রানি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের ধারণা, পূর্বশত্রুতা থেকে অথবা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব ই-মেইল পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ আশাবাদী।

তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনাকেই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। এ ঘটনাতেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এর রহস্য দ্রুত উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম