ঢাকায় পাঠানোর পথে ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ, ৫ জনের কারাদণ্ড

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫১

ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় জামালপুরে প্রায় ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাংসের এই বড় চালান জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ভোরে নরুন্দি চকবাজার এলাকায় যাত্রাবাড়ীগামী একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা ১৩টি বস্তা থেকে প্রায় ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সদর উপজেলার মিরাপুর ঘাট এলাকা থেকে মাংসগুলো ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় মানুষের খাবার হিসেবে সরবরাহের উদ্দেশ্যেই মাংসগুলো পাঠানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে জামালপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমন হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ ঘটনায় আটক পাঁচজনকে সাজা দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—জুয়েল, শহীদ মিয়া, আফজাল মিয়া, হুমায়ুন ও রাসেল মিয়া। তাদের মধ্যে মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত তিনজনকে ছয় মাস করে এবং পিকআপের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পাঁচজনকে মোট ১ লাখ ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এর আগে তাদের ধরতে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, এবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাংসের চালানসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

জব্দ করা মাংসের উৎস কোথায় এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ বলছে, মাংসের চালানটির প্রকৃত উৎস, পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং ঢাকায় এর সম্ভাব্য ক্রেতা বা সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম