চিনিতে লোকসান, অ্যালকোহলে কেরুর রেকর্ড মুনাফা ২২৪ কোটি টাকা

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

দেশের অধিকাংশ চিনিকলের মতো চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি উৎপাদন ইউনিটও বছরের পর বছর লোকসান গুনছে। তবে চমক দেখিয়েছে কেরুর ডিস্টিলারি ও অন্যান্য ইউনিট।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরুর নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি। যা স্মরণকালের রেকর্ড। এর মধ্যে শুধু অ্যালকোহল বিক্রি থেকেই এসেছে ২২৪ কোটি টাকা। বিপরীতে, একই সময়ে চিনি কারখানায় লোকসান হয়েছে ৬০ কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরে কেরু মুনাফা করেছিল ১২৯ কোটি টাকা। সেটি তখন প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।

তবে সামগ্রিক মুনাফার এই চিত্রের উল্টো পিঠে রয়েছে কেরুর চিনি কারখানা। এবার চিনি উৎপাদন ইউনিটে লোকসান দেখানো হয়েছে ৬০ কোটি টাকারও বেশি। চিনিতে প্রতিবছর লোকসান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আখচাষি ও স্থানীয়রা।

এদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও কেরুর মুনাফার সবচেয়ে বড় উৎস ডিস্টিলারি ইউনিট। বিলেতি ও দেশীয় মদ উৎপাদন এবং বিক্রি করে এই ইউনিটে লাভ দেখানো হয়েছে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি—দুটিই গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা ছিল ১৮৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ কোটি টাকায়।

এছাড়াও জৈব সার কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিট থেকেও উল্লেখযোগ্য মুনাফা এসেছে। এসব মুনাফার সঙ্গে লোকসান ও রাজস্ব খাত সমন্বয় করে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা। তবে আগামীতে চিনি খাতের লোকসান আরও কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি কেরু কর্তৃপক্ষের।

ইত্তেফাক/এটিএন