বান্দরবানে রুমা উপজেলায় পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার সড়কে বাষট্টিটি ব্রিজের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ৫৪টি বেইলি ব্রিজ। এসব ব্রিজ পেরিয়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে যাত্রীরা প্রতিদিনই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এরমধ্যে পর্যটকবাহী গাড়ির সংখ্যাই বেশি। দীর্ঘদিনের পুরোনো বেইলি ব্রিজগুলো কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রেখেছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজগুলোতে প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোর সূত্র জানায়, পর্যটনের শহর বান্দরবান জেলা সদর থেকে রুমা উপজেলার দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার। বর্ষায় পাহাড়ধস এবং সড়ক ভেঙে গিয়ে সড়কটি আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোটো-বড়ো খানাখন্দ আর অসংখ্য গর্ত। বান্দরবান থেকে রুমা উপজেলা বাজার পর্যন্ত পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার সড়কে ছোটো-বড়ো ব্রিজের মোট সংখ্যা ৬২টি। এরমধ্যে ১৯৮০ সালের তৈরি পুরোনো ৫৪টি বেইলি (স্টিল) ব্রিজের সবগুলোই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা ব্রিজগুলো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে অসংখ্য যানবাহন। এসব ব্রিজের কোনো কোনোটিতে কাঠের পাটাতন বিছিয়ে মেরামত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজগুলো দ্রুত সংস্কার এবং পাকা ব্রিজ তৈরি করার দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের। প্রতিবছর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য ব্যয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা।
গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চিম্বুক ওয়াইজংশন তিন রাস্তা মোড় থেকে রুমা পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। আর জেলা সদর থেকে চিম্বুক পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩ কোটি টাকা। এবছর বর্ষায় শুধু ওয়াইজংশন থেকে রুমা পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়কে ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি টাকা।
রুমা উপজেলার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম, শৈহ্লা মং মারমাসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বর্ষায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এগারো দিন বন্ধ ছিল সড়ক যোগাযোগ। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের প্রচেষ্টায় সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজগুলো যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এসব বেইলি ব্রিজ দিয়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজগুলোর স্থলে পাকা আরসিসি ব্রিজ তৈরির দাবি জানাচ্ছি।
পরিবহন শ্রমিক নূর হোসেন, মোহাম্মদ কামাল বলেন, ভাঙাচোরা রুমা-চিম্বুক সড়কে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। বিপজ্জনক সড়কটি এতটাই ভাঙাচোরা যে প্রতিদিনই গাড়ির কোনো না কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তিও যেন কম নয়। সড়কটি ভাঙাচোরা হওয়ায় ঝাঁকনিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে যাত্রীরা। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানচ্ছি।
রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান উহ্লাচিং মারমা জানান, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় রুমা উপজেলা। কিন্তু পাহাড়ের আঁকাবাঁকা ৪৫ কিলোমিটার সড়কটি এখন বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। রুমা উপজেলার দৃষ্টিনন্দন ট্যুরিষ্ট স্পট বগালেক, রিজুক ঝরনা, ক্যাওক্রাডং, জাদিপাই ঝরনা দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণে আসা পর্যটকরাও চরম দুর্ভোগে পড়ছে। ভাঙাচোরা এবং বিপজ্জনক ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোর কারণে রুমা উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি উপজেলাবাসীর।
জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সজিব আহমেদ জানান, রুমা-চিম্বুক সড়কের জন্য নতুন কোনো বরাদ্দ আসেনি। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোর সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেখাশোনার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য কত টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সেটি আমার জানা নেই। তবে দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হলেও সড়কের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি (স্টিল) ব্রিজগুলো জরুরি ফান্ড থেকে সংস্কার করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবি ইঞ্জিনিয়ার কোরের কর্মকর্তা লে. কর্নেল রোমিও জানান, বান্দরবান জেলা সদর থেকে চিম্বুক এবং ওয়াইজংশন থেকে রুমা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজগুলো বাতিল করে আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। মন্ত্রণালয়ে বাজেট প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে। সড়কটি মেরামতের কাজ করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার শাখা। বাজেট পাওয়ার পর দ্রুত বিপজ্জনক ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোর স্থানে পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
