গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজাতে আসছে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৭

প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তৃণমূলের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’ এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হেলথ হাব’ হবে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা এক ছাতার নিচে পাওয়া যাবে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক পদায়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে জটিলতা বাড়ার আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা ১৫১টিতে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে।

মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট ও হাসপাতালের আইসিইউ সেবা নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্ধ থাকা আইসিইউ এবং নতুন মেডিকেল কলেজ চালু করা হবে।

তবে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে কঠোর হওয়ার বার্তাও দেন তিনি। সেবার মান বাড়লেও দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন, জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েলসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

 
ইত্তেফাক/এমএএম