চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর অনেক দেরিতে আমন ধান রোপণ শুরু হয়েছে। এ বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতি পোষানোর আশায় আমন রোপণে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সাতকানিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়নে আমন ধান রোপণের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২১০০ হেক্টর। তার মধ্যে স্থানীয় ২৫০ হেক্টর, হাইব্রিড ৬০০ হেক্টর এবং উফসি ১১২৫০ হেক্টর। ইতিমধ্যে আনুমানিক ৫০ হেক্টর জমি রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ১০ হেক্টর ও ৪০ হেক্টর উফসি জাতের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাতকানিয়ার একটি পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নের ধানি বিলে কেউ ধান রোপণ করছেন, কেউ চাষ করছেন আবার কেউ জমি তৈরি করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর জমিতে তারা কালোজিরা, পাইজাম, বিনা ৭, ১৭, ২০, হাইব্রিড, ব্রি ধান-৭২, ৪০, ৩৩, ৪১, ৪৯, ৫২, বিআর-১১, ১০, ২২, ২৩, বিনি জাতের ধান, ধানী গোল্ড, তেজ ও এজেড জাতের ধান রোপণ করেছেন।
উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের গারাংগিয়া গ্রামের আমন ধান চাষি মোহাম্মদ নুরুল কবির, বোর্ড অফিস এলাকার মোক্তার আহমদ, সদর ইউনিয়নের বারদোনা এলাকার মহিউদ্দিন জানান, বন্যার কারণে এ বছর আমন রোপণ করতে দেরি হয়ে গেছে। এক কানির মতো জমি রোপণ করতে পেরেছে। আরো অনেক জমিতে রোপণ করা বাকি আছে। তারা আরো জানান, জমিতে বিআর, ব্রি, হাইব্রিড জাতের ধানসহ অন্য ধানও রোপণ করেছেন।
সাতকানিয়া উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম জহির জানান, আমন ধান রোপণের এখনই উপযুক্ত সময়। বন্যার কারণে আমন রোপণে একটু দেরি হলেও এ বছর ফলন হবে বেশি। কারণ জমিতে অনেক পলি পড়ছে। ধানের বাজার কম হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, সবসময় তো আর বাজারদর এক থাকে না, দাম বাড়তেও পারে। কৃষকরা যদি লাইন করে সারিবদ্ধভাবে ধান রোপণ করেন তাহলে অনেক বেশি লাভবান হবেন।
