ডারউইনে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ ম্যাকাইয়ে যেন পুরোপুরি নিস্তেজ। দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়েছে টেস্ট। কোনো ব্যাটারই পারেননি প্রতিরোধ গড়তে। সিরিজের শেষ ম্যাচে দলের এমন ব্যাটিং পারফরম্যান্স হতাশ করেছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও। তবে হতাশা পেছনে ফেলে ম্যাকাইয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
সিরিজ শেষের সংবাদ সম্মেলনে দলের ব্যাটিং নিয়ে শান্ত বলেন, 'খুবই হতাশাজনক ব্যাটিং। আমরা ব্যাটিং ভালো করিনি। এত বছর পর এসে এরকম কন্ডিশনে খেলা অনেক কঠিন। আমরা এত বছর পর এসে অজুহাত দিচ্ছি না। এখানে অনেক দল আছে, যারা নিয়মিত খেলে, তারাও কলান্স করে। আমরা খারাপ খেলেছি, অনেক কঠিন ছিল অবশ্যই। প্লেয়াররা সবাই চেষ্টা করেছে। অবশ্যই আমরা আরেকটু ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম।'
অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক-কামিন্সদের মতো বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাকে অবশ্য ইতিবাচকভাবেই দেখছেন শান্ত। তিনি বলেন, 'কঠিন তো অবশ্যই, এটা আগেই জানতাম। আমি অনেক উপভোগ করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল এরকম বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলব, বড় রান করব। কেমন লাগে, টিভিতে তো দেখি। অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে আমার মনে হয় আমাদের যে ব্যাটিং আছে, যেখানে আছি, যদি এমন নিয়মিত খেলতে পারতাম, আমাদের ব্যাটিং আরও উন্নতি করত। শুধু আমি না, সবাই এমন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলে অনেক উপভোগ করেছে।'
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ নিয়ে শান্ত বলেন, 'আমার মনে হয় স্টার্ক এখনো অন্যতম সেরা বোলার। নতুন বলে ব্রেক থ্রু দেয়। অনেক বছর ধরে খেলছে, অনেক অভিজ্ঞ। নতুন বলে ভালো সুইং করে ব্যাটারদের টাফ টাইম দেয়। পেস কমেছে অবশ্যই। আমি এখনো বিশ্বাস করি সে অন্যতম সেরা বোলার এবং সে ভালোভাবে কামব্যাক করবে।'
ডারউইনে দুর্দান্ত জয়ের পর টেস্ট র্যাংকিংয়ে বড় লাফ দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম বারের মতো উঠে এসেছে ছয় নম্বরে। এই উন্নতিকে বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন শান্ত। বলেন, 'ছয় নম্বরে উঠে এসেছি, অনেক অনেক ভালো ব্যাপার। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আমার অনেক স্বপ্নের কথা বললে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না। এটা সিক্রেট থাকুক। যদি কখনো অর্জন করতে পারি, তাহলে বলব।'
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফর করেছে বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ চান শান্ত। বলেন, 'আসা তো উচিতই। উপমহাদেশের দলগুলো সাধারণত এখানে খুব ভালো ক্রিকেট খেলে না। আমরা এত বছর পরে এসে এরকম একটা ফল করলাম। অবশ্যই আমাদের ডাকা উচিত। ডাকলে আমরা নিজেরাও এই কন্ডিশন সম্পর্কে জেনে ভালোভাবে চ্যালেঞ্জগুলো নিতে পারব। ভালো ক্রিকেট খেলব, ইনশাল্লাহ; এটা বিশ্বাস করি।'
মাত্র দুই দিনে ম্যাকাই টেস্ট শেষ হওয়া নিয়েও কথা বলেন শান্ত। উপমহাদেশের উইকেট নিয়ে প্রচলিত সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'আমরা যখন উপমহাদেশে খেলি, এক দিনে ১৮-১৯ উইকেট পড়লে সবাই অনেক কথা বলে। এই ম্যাচে প্রথম দিনেই ১৮ উইকেট পড়েছিল। উইকেট চ্যালেঞ্জিং ছিল দেখেই ১৮ উইকেট পড়েছে। শুধু যদি এমন হতো যে আমাদের উইকেট পড়েছে, ওদের পড়েনি, তাহলে বুঝতাম।'
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শান্ত। তিনি বলেন, 'ওরা যেভাবে কামব্যাক করেছে, টসে জিতে ফিল্ডিংও নিয়ে নিল। নরমালি ওরা এটা করে না, শুনলাম অনেক জায়গায়। এই অনেক কিছুই আমরা ওদের চ্যালেঞ্জের মুখে দিয়েছি। ব্যাটিংয়ে তাদের দুইশতে অলআউট করে দিয়েছি। সব মিলিয়ে অবশ্যই উদযাপন করা উচিত। এই টেস্ট থেকে শেখা উচিত, কীভাবে আমরা ভালো করতে পারি। আপনারা কি ভুলে গেছেন প্রথম টেস্ট? আমি ভুলিনি। আশা করি দেশের মানুষও ভুলে নাই। অনেক বড় অর্জন।'
ম্যাকাইয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতার মধ্যেও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের প্রশংসা করেছেন শান্ত। বলেন, 'লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা অনেক ভালো করেছে। গত সিরিজেও তারা ভালো করেছে। তারা উন্নতি করছে, এটা ইতিবাচক। মুশফিক ভাই তাদের নিয়ে খেলছিলেন। অনেক সময় লিটন ভাই খেলে, অনেক সময় মিরাজও খেলে। আজকে আসলে একা কিছু করা সম্ভব ছিল না। এখানে লোয়ার অর্ডাররা ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে।'
সবশেষে দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়াকে বড় কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন না শান্ত। তবে ভবিষ্যতে ধারাবাহিক হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বলেন, 'প্রথম বার দুই দিনে খেলা শেষ হয়েছে, এরকম নয়। এখানে অনেকবারই এভাবে দুই বা তিন দিনে খেলা শেষ হয়েছে। এটা হতেই পারে। দল হিসেবে আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে, যদি সামনে এগোতে চাই। ব্যাটিংয়ে আমাদের ঠিকভাবে এগোতে হবে, কারণ বোলাররা ভালো করে যাচ্ছে। আমাদের আরও শিখতে হবে, কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলে যেতে পারি। এমন অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে আমাদের। এই অভিজ্ঞতা সামনে এগোতে কাজে দেবে।'

