ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা, নিরাশ না হয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এই ৫ আয়াতে

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯

তকদির বা ভাগ্যের ভালো-মন্দে বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, তকদিরের কিছু বিষয় চূড়ান্ত হলেও কিছু বিষয় দোয়া, নেক আমল ও সদকার মতো আমলের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে জীবনে বিপদ-আপদ এলে সেটিকে ‘খারাপ সময়’ বলে সময় বা ভাগ্যকে দোষারোপ করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।

ইসলামে তকদিরকে সাধারণভাবে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়—‘মুবরাম’ ও ‘মুআল্লাক’। আরবি ‘মুবরাম’ শব্দের অর্থ চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয়। আর ‘মুআল্লাক’ অর্থ ঝুলন্ত বা লটকানো। সহজভাবে বলতে গেলে, মহান আল্লাহ বান্দার তকদির নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি তা পরিবর্তনের ক্ষমতাও রাখেন। তকদিরের কিছু বিষয় নির্ধারিত, আবার কিছু বিষয় বান্দার নেক আমল, বাবা-মায়ের দোয়া বা সদকার মতো আমলের সঙ্গে সম্পর্কিত।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সৎকর্ম আয়ু বাড়ায় এবং দোয়া ছাড়া অন্য কিছু তকদির পরিবর্তন করে না। মানুষের অসৎকর্ম তাকে রিজিক থেকেও বঞ্চিত করে। (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৯০; সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯)

জীবনের নানা সংকট ও দুর্ভোগে পড়ে অনেক মানুষ হতাশ হয়ে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করেন। অনেকে কোনো কঠিন সময়কে ‘খারাপ সময়’ বলেও উল্লেখ করেন। কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিতে সময় বা কালকে খারাপ বলে গালমন্দ করা ঠিক নয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তান সময় ও কালকে গালমন্দ করে, অথচ আমিই সময়, আমার হাতেই রাত ও দিনের পরিবর্তন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬৭)

এ কারণে বিপদ-আপদের সময়ে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বা হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা এবং দোয়ার মাধ্যমে তাঁর সাহায্য চাওয়ার কথা ইসলামী শিক্ষায় গুরুত্ব পেয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ভয়াবহ বিপদ, দুর্ভাগ্যের অতল গহবর, মন্দ তকদির এবং শত্রুর আনন্দ প্রকাশ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৩০)

কষ্ট বা পরীক্ষার সময়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতেও ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর আস্থা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সুরা বাকারার ১৫৫-১৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষকে ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি বিপদে পড়লে ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব’—এ কথা বলার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সুরা আলে ইমরানের ১৮৬ নম্বর আয়াতে মানুষের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে পরীক্ষা এবং বিভিন্ন কষ্টদায়ক কথা শোনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সেখানে ধৈর্য ও তাকওয়া অবলম্বনকে দৃঢ় সংকল্পের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, তিনি বান্দার নিকটবর্তী এবং আহ্বানকারী যখন তাঁকে ডাকে, তখন তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। তাই বান্দাকে আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুরা আল-লাইলে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে, তাঁকে ভয় করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তার জন্য সহজ পথে চলা সুগম করে দেওয়া হবে। (সুরা আল-লাইল, আয়াত: ৪-৭)

এ ছাড়া সুরা বাকারার ২৮৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। একই আয়াতে ভুল-ত্রুটি ক্ষমা, বোঝা লাঘব এবং আল্লাহর রহমতের জন্য দোয়া শেখানো হয়েছে।

তাই জীবনে কোনো বিপদ বা দুর্ভোগ এলে সেটিকে ‘খারাপ সময়’ বলে সময় বা ভাগ্যকে দোষারোপ না করে ধৈর্য ধারণ, নেক আমল, দোয়া এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখার শিক্ষা ইসলামে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন