টিসিবির পণ্য নিয়ে বিরোধে রড-হাতুড়ির আঘাতে বৃদ্ধের মৃত্যু

১০ দিনে ঝিনাইদহে তিন খুনসহ পাঁচ লাশ উদ্ধার

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় টিসিবির পণ্য নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রড ও হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত ইলিয়াস আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে, গত ১০ দিনে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তিনটি হত্যাকাণ্ডসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ শৈলকুপায় টিসিবির পণ্য নেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলায় আহত ইলিয়াস আলীর মৃত্যু হলো।

নিহত ইলিয়াস আলী শৈলকুপা পৌর এলাকার মালিপাড়া গ্রামের মৃত জিয়ারত আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শৈলকুপার চতুড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মাজিদুল বিনা কার্ডে টিসিবির পণ্য নিতে আসেন। কার্ড না থাকায় এ নিয়ে ইলিয়াস আলীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই দিন দুপুর ২টার দিকে ইলিয়াস আলী বাড়ি থেকে শহরের উদ্দেশ্যে বের হয়ে হাজি মোড়ে পৌঁছালে মাজিদুল তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে ইলিয়াস আলীকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পুত্রবধূ সীমা খাতুন বলেন, সকালে টিসিবির পণ্য নেওয়া নিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে মাজিদুলের কথা-কাটাকাটি হয়। দুপুরে তার শ্বশুর বাজারে যাওয়ার পথে হাজি মোড়ে পৌঁছালে মাজিদুল রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে পিটিয়ে সংজ্ঞাহীন করে ফেলে যান। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, টিসিবির পণ্য নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় আহত এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

এদিকে, গত ১০ দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে তিনটি হত্যাকাণ্ডসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইত্তেফাক/এএইচপি