প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে ইউক্রেন গিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক ও কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং এর সভাপতিত্ব করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ; দিয়েছেন ইউক্রেনকে অবিরত সমর্থনের আশ্বাস।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল ইউক্রেনের মজুতও কমে আসছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শীত শুরুর আগেই তিনি ৩০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের আশা করছেন। শীতকালে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্য দেশগুলোরও এ ক্ষেত্রে সহায়তার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, সমস্যাটির সমাধানে একাধিক পক্ষের আলোচনা ও সমন্বয় প্রয়োজন।
এদিকে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এমন উন্নত প্রযুক্তি অন্য দেশকে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।
কিয়েভে বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বার্নহ্যাম, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের শহর, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানান তারা। রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন তারা।
সফরের আগে বার্নহ্যাম বলেন, ইউক্রেনের স্বাধীনতার ৩৫তম বার্ষিকীতে দেশটির জনগণের কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে যুক্তরাজ্য তাদের পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জড়িত। রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধের চেয়েও যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনের বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী হবে। ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের সংকল্পে কোনো পরিবর্তন হবে না।
সূত্র: বিবিসি

