পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের প্রাচীনতম প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখল করল ইসরায়েলি বাহিনী

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩০

অধিকৃত পশ্চিম তীরের পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর একটি ঐতিহাসিক কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র সাঁজোয়া যান নিয়ে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে সংস্থাটির কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ঢুকে এই দখলদারত্ব কায়েম করা হয়।

ইউএনআরডব্লিউএ সূত্রে জানা গেছে, অন্তত চারটি সাঁজোয়া যান এবং অর্ধশতাধিক সশস্ত্র ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা আকস্মিকভাবে ওই কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ ঘটনার পর পরই ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পাসের একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘ইউএনআরডব্লিউএ এখন আমাদের দখলে।’

কালান্দিয়ার এই স্থাপনাটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ইউএনআরডব্লিউএ-র প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে পুরোনো কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সরাসরি জাতিসংঘের সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত। নিজস্ব স্থাপনায় এমন সশস্ত্র অনুপ্রবেশের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।

পশ্চিম তীরে জাতিসংঘের এই সংস্থার পরিচালক রোল্যান্ড ফ্রিডরিখ ইসরায়েলি বাহিনীর এ ধরনের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত সব জাতিসংঘ স্থাপনার অখণ্ডতা রক্ষা করতে এবং ফিলিস্তিনিদের মৌলিক মানবিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংস্থাটি।

এদিকে এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, জাতিসংঘের কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এমন অভিযান ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত আগ্রাসনেরই অংশ। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েলের এই বেপরোয়া পদক্ষেপ বন্ধে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের এই সংস্থাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ইসরায়েল ও পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ-র সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে একটি অভ্যন্তরীণ আইন পাস করে তেল আবিব। সেই আইনের জের ধরে গত জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়টি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় হামাসের প্রভাব থাকলেও পশ্চিম তীর পরিচালিত হচ্ছে প্রয়াত ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের দল ফাতাহ তথা প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্বশাসিত ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ’ দ্বারা।

ইত্তেফাক/এনএন