আড়াই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত, ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪২

যারা এতদিন এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। চলতি মাসেই এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করবে শিক্ষামন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘তবে সেটা চলতি সপ্তাহেও হতে পারে’। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে আড়াইহাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংযুক্ত সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এ তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১ জুলাই থেকেই প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বাস্তবায়ন হবে।

গত বছরের ৫ আগস্ট এমপিওভুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হয় ২ হাজার ৭শটি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজ রয়েছে প্রায় ১৭০০। বাকিগুলো কারিগরি ও মাদ্রাসা। স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্তি করতে বছরে খরচ হবে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি করতে লাগবে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা।

শিক্ষামন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমন উপজেলাও রয়েছে যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্তির তালিকায় নেই। এ সংখ্যা ২০ থেকে ২২টি হতে পারে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, পুরো তালিকাই নিয়মের মধ্যেই হয়েছে। নিয়মের বাইরে হওয়ার কোনো সুযোগও ছিল না। নীতিমালা অনুযায়ী, কোথাও কোনো যোগ্য প্রতিষ্ঠান না থাকলেও সেগুলোকে এমপিওভুক্তির তালিকায় রাখার সুযোগও নেই।

গত বছরের ৫ থেকে ২০ আগস্ট বেসরকারি স্কুল ও কলেজের কাছ থেকে অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন নেওয়া হয়। ৯ হাজার ৬১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে। নতুন এমপিওর জন্য চারটি শর্ত দিয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই চারটি শর্ত হলো—প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির বয়স, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাসের হার। যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্তগুলো পূরণ করেছে তাদের মধ্য থেকে স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে তালিকা করে মন্ত্রণালয়।

নীতিমালার চার শর্তে যেসব উপজেলায় কোনো প্রতিষ্ঠান যোগ্য হতে পারেনি এবং হাওর, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, নারী শিক্ষা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষায় অনগ্রসর এলাকার কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে শর্ত শিথিল করে এমপিওভুক্তির তালিকায় রাখা হয়েছে। এমপিও নীতিমালায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় শর্ত শিথিলের সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, শর্ত শিথিল হলেও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে তালিকায় রাখা হয়েছে।

২০১০ সাল থেকে এমপিওভুক্তি কার্যক্রম বন্ধ ছিল।