চাঁদপুর শহরের ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তীকে ডিস লাইনম্যান জামাল হোসেন ও মহাজন আনিছুর রহমান পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। রবিবার বিকেলে পিবিআই জেলা কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল চাঞ্চল্যকর এ হত্যা রহস্য সাংবাদিকদের মাঝে তুলে ধরেন।
গত ২১ জুলাই শহরের ষোলঘর পাউবো স্টাফ কোয়ার্টারের নিজ বাসায় খুন হন পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব সহকারী অলোক গোস্বামীর স্ত্রী শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী। এই ঘটনার পরদিন স্বামী অলোক গোস্বামী চাঁদপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপ চক্রবর্তী ২৪ জুলাই রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ডিস লাইনম্যান জামাল হোসেন ও মহাজন আনিছুর রহমানকে আটক করেন। গত ৪ আগস্ট ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত কার্যক্রম পিবিআইতে ন্যস্ত করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দুই দিনের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জামাল ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
জামালের দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনার দিন আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক পাউবোর ভিতরে পরিত্যক্ত একটি ঘরে এসে অভিযুক্ত আনিছুর রহমান ও জামাল ইয়াবা সেবন করে। তারপর জয়ন্তী চক্রবর্তীর বাসার নিচতলার সানশেডে উঠে জামাল ডিসের লাইন নাড়াচাড়া করলে জয়ন্তীর টিভি দেখার সমস্যা দেখা দেয়। তখন লাইন ঠিক করার কথা বলে তারা কৌশলে বাসায় প্রবেশ করার জন্য গেইটের চাবি নিচে ফেলতে বলে। জয়ন্তী চক্রবর্তী সরল বিশ্বাসে চাবি নিচে ফেললে প্রথমে আনিছ ও পরে জামাল বাসায় প্রবেশ করে। এসময় জয়ন্তীকে ধর্ষণের উদ্দেশে আনিছ ধস্তাধস্তি শুরু করে। পরে জামালও ঘরে প্রবেশ করে দুই জনে মিলে টানাহেঁচড়া শুরু করলে জয়ন্তী মেঝেতে পড়ে যায়। এরপর একে অন্যের সহায়তায় প্রথমে আনিছ ও পরে জামাল পালাক্রমে জয়ন্তীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর জয়ন্তী এ ঘটনা লোকজনকে বলে দেওয়ার হুমকি দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে জয়ন্তীকে গলাকেটে হত্যা করে।
পিবিআই চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাসসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।
