আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৬৩ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাবুল শহরের পশ্চিমে শিয়া অধ্যুষিত একটি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গতকাল নিহতদের কয়েক জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান স্থলে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী নিজের শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তালেবানরা এ হামলার দায় অস্বীকার করলেও কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে মৃতদেহগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এই বর্বর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জঙ্গিদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি তালেবানকে দোষারোপ করেছেন।
আফগানিস্তানে বিয়েতে অনেক অতিথি থাকে এবং তারা একটি বড়ো হলঘরে সমবেত হয়। যেখানে পুরুষদের থেকে নারী ও শিশুরা আলাদা অবস্থানে থাকে। বিয়েতে আসা একজন অতিথি মোহাম্মদ ফারহাগ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, পুরুষরা যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সবাই চিত্কার করে কাঁদতে কাঁদতে বাইরে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। প্রায় বিশ মিনিট ধরে পুরো হলরুমটি ধোঁয়ায় ভর্তি ছিলো। পুরুষদের প্রায় সবাই হয় নিহত কিংবা আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় ফারহাগ নারী ও শিশুদের অবস্থানের কাছে ছিলেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজ করা একজন ওয়েটার সৈয়দ আগা শাহ বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সবাই দৌড় শুরু করে। আমাদের বেশ কয়েকজন ওয়েটার নিহত বা আহত হয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশনকে বর মিরাওয়াইস বলেন, আমার পরিবার, আমার স্ত্রী সবাই শোকাহত। এমনকি তারা কথাও বলতে পারছেন না। আমার ভাই নিহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন বন্ধু ও আত্মীয় মারা গেছেন। আমি জীবনে আর কোনোদিন সুখের মুখ দেখবো না। কনের বাবা জানান, তার পরিবারের ১৪ জন এই হামলায় নিহত হয়েছেন।
তালেবানদের একজন মুখপাত্র এই হামলার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, নারী ও শিশুদের টার্গেট করে এ ধরণের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
প্রসঙ্গত, মাত্র দিন দশেক আগে কাবুল পুলিশ স্টেশনের কাছে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছিলো। ওই হামলার দায় স্বীকার করে তালেবানরা। শুক্রবার তালেবান নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার এক ভাই পাকিস্তানের কোয়েটার কাছে একটি মসজিদে পেতে রাখা বোমায় নিহত হন। সেই হামলার দায় অবশ্য কেউ স্বীকার করেনি। দেশটিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে যদিও তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কাতারের দোহায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
