দুই গোলে পিছিয়ে থাকা, তার ওপর ম্যাচের ১৩ মিনিট থেকেই ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া—এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও হার মানেনি আল নাসর। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে আল ইত্তিফাককে ৩-২ গোলে হারিয়েছে দলটি। ম্যাচের শেষ ১৬ মিনিটে সাদিও মানের জোড়া গোল ও আবদেলেলাহ আল-আমরির গোলে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় আল নাসর।
সৌদি প্রো লিগের ম্যাচটিতে শুরু থেকেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে আল নাসর। মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় গোলরক্ষক বেঞ্চু লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। সংখ্যাগত এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আল ইত্তিফাক।
গোলের সুযোগ তৈরি করতেও হিমশিম খাচ্ছিল আল নাসর। প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দলটি।
বিরতির সময় আল নাসর কোচ অ্যাঙ্গে পোস্টেকোগ্লু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেন। তার জায়গায় মাঠে নামেন সৌদি মিডফিল্ডার আবদুল্লাহ আল-খাইবারি। রোনালদোকে তুলে নেওয়ার পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ১০ জনের দল নিয়েই দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় আল নাসর।
ম্যাচ শেষে রোনালদোকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ পোস্টেকোগ্লু।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ক্রিস্টিয়ানো খুব বেশি ফুটবল খেলেনি। ১০ জন নিয়ে ৪৫ মিনিট পর তাকে মাঠে রাখাটা কঠিন ছিল। প্রথমার্ধে সে দারুণ কাজ করেছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের ভিন্ন একটি পরিকল্পনা দরকার ছিল।’
তবে রোনালদোকে ঘিরে আলোচনার পরিবর্তে ১০ জনের আল নাসরের লড়াইকে সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টেকোগ্লু বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজকের বড় গল্প অন্য কিছু। আল নাসরের ১০ জন খেলোয়াড় অবিশ্বাস্য ছিল। আপনারা শুধু সেটি নিয়েই লিখুন।’
দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আল নাসরের প্রত্যাবর্তনের শুরু ম্যাচের শেষ ১৬ মিনিটে। প্রথমে ব্যবধান কমান সাদিও মানে। এরপর সমতা ফেরানোর গোলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হোয়াও ফেলিক্স। তার অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন আবদেলেলাহ আল-আমরি। ফলে ২-২ সমতায় ফিরে আসে আল নাসর।
তাতেও থামেনি তাদের লড়াই। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন মানে। সাবেক লিভারপুল তারকা নিজের দ্বিতীয় গোল করে আল নাসরকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ১০ জনের দলটি।
ম্যাচ শেষে দলের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন পোস্টেকোগ্লু। তার মতে, এই জয় শুধু খেলোয়াড়দের দক্ষতার কারণে আসেনি, কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই আল নাসরকে জয় এনে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই ভাগ্যের কারণে হয় না। সবকিছুর পেছনে কঠোর পরিশ্রম আর ঘাম থাকে, আজ যেমনটা আপনারা দেখেছেন।’
পোস্টেকোগ্লুর মতে, একজন ফুটবলারের মান শুধু তার দক্ষতায় নির্ধারিত হয় না, কঠিন সময়ে তার চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে, বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের মান নিয়ে নয়, তারা কী ধরনের মানুষ সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, তারা অসাধারণ মানের খেলোয়াড়। কিন্তু তারা যোদ্ধাও। আজ তারা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি যতই হোক, তারা সেটা মেনে নিতে রাজি ছিল না। আর এটাই খেলার দক্ষতার চেয়েও বেশি কিছু দেখায়। এটা তাদের চরিত্রের পরিচয়।’
পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপের দায়িত্ব শেষ করে আল নাসরে ফিরেছেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এটি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ২৫তম মৌসুম। আল নাসরের হয়ে সর্বশেষ আল রিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৯৭৭তম গোল করেছিলেন তিনি। ফলে হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের আরও কাছে চলে গেছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি।
তবে আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদোকে ছাড়াই লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে আল নাসরকে। শেষ পর্যন্ত সাদিও মানের জোড়া গোল ও আবদেলেলাহ আল-আমরির গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পোস্টেকোগ্লুর দল।

