বিবিসির প্রতিবেদন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে ভূমিকম্প ও হিমবাহ ধস

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২

২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালের এবারের বন্যা ও ভূমিধসকে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হচ্ছে। নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর লেন্দে খোলা নদীর ওপর থাকা বড় একটি হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ধসে পড়ে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। ধসের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সেখানে সাময়িকভাবে পানির আধার তৈরি হয়। পরে জমে থাকা পানি ও বরফের সেই বাধা ভেঙে প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে আসে। এতেই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, ভূমিকম্পটি হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে। এর ৩ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘তবে এটা আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে।’

হঠাৎ ধেয়ে আসা ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, দীর্ঘ কালের ভূকম্পীয় তরঙ্গের ফলে ভূকম্পীয় শক্তিটি ভূমিধসের কারণে পরিণত হয়েছে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।

নেপালের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে বরফের একটি বিশাল খণ্ড ধসে পড়ে থাকতে পারে, যা পাথর ও অন্যান্য পলিমাটি টেনে নামিয়ে এনেছে।

প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা। দুর্ঘটনার পর বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের তালিকায় শতাধিক ভারতীয় নাগরিকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।

হঠাৎ ধেয়ে আসা ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। লেন্দে নদীর উজানে মাটি ও বরফের স্তূপ আটকে থাকায় নতুন করে পানির প্রবাহ তৈরি হলে আবারও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

নেপাল থেকে প্রবাহিত কয়েকটি নদী ভারতে প্রবেশ করায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বিহার ও উত্তর প্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস