নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় পাহাড়ি নদীর আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে নদীর গতিপথ রুদ্ধ হওয়ার পর সৃষ্ট এই হড়পা বানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে পাহাড়ি ভোতকোশি নদীতে হঠাৎ তীব্র বেগে পানির তোড় নেমে এলে আশপাশের জনপদে ভয়াবহ প্লাবন দেখা দেয়। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্তের প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল অংশের লেন্দে নদীতে বড় ধরনের বরফ ধসের কারণে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ আটকে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি জমা হয়েছিল।
তিনি জানান, প্রায় একই সময়ে পার্শ্ববর্তী চীনা ভূখণ্ড তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভূকম্পনের তীব্রতায় জমে থাকা বরফের প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে যায় এবং আটকে থাকা বিপুল জলরাশি একযোগে ভোতকোশি নদী দিয়ে নিম্নাঞ্চলে নেমে এসে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
চীনা বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে অধ্যাপক রিজান কান্তিপুর টিভিকে জানান, এটি কোনো অতিবৃষ্টিজনিত বন্যা নয়, বরং পানির তীব্র বিস্ফোরণের মতো ঘটনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আসা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নেপাল প্রান্তে লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে নদীর মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ঠিক সেই সময়েই তিব্বতে একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।’
এ বিপর্যয়ের পেছনে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ বা ‘গ্ল্যাসিয়াল লেক আউটবার্স্ট’-এর কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন গবেষকরা। তবে চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, গত বছরও একই নদীতে বরফধসে পানিপ্রবাহ আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, তবে তখন কোনো আকস্মিক প্লাবনের সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম ওই পাহাড়ি অঞ্চলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

