এবার ঈদুল আজহায় সড়ক, রেলপথ ও নৌপথে মোট ২৪৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৫৩ জন নিহত ও ৯০৮ জন আহত হয়েছেন। ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৯ প্রকাশ উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে এবারের ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি, রেলপথে সিডিউল বিপর্যয়, টিকিট কালোবাজারি, ফেরি পারাপারে ভোগান্তিসহ নানা কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে।
তিনি বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৬.৪০ শতাংশ, নিহত ৬.২৫ শতাংশ আহত ১.৫০ শতাংশ কমেছে। এ বছর মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষের ঘটনা ৬৭টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা মোট দুর্ঘটনার ৫২.২১ শতাংশ। আগামী বছর এ দুটি ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি। তিনি আরো বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭ জন চালক, তিন জন শ্রমিক, ৭০ জন নারী, ২২ জন শিশু, ৪২ জন ছাত্র-ছাত্রী, তিন জন সাংবাদিক, দুই জন চিকিত্সক, আট জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও তিন জন রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ১১, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে এক, ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষে এক জনসহ ১৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌপথে ২৪টি ছোটোখাটো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৫৯ জন নিখোঁজ ও ২৭ জন আহত হয়েছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরো বলেন, যতদিন চালক ও সহকারীদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে না ততদিন আমাদের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করতেই হবে। ঈদের সময় অতি মুনাফার আশায় চালক, সহকারী ও গাড়ি মালিকরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটনসহ বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
