নেপালের ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় এলাকাগুলোকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগকবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
সরকারের এই ঘোষণার ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সরকারি কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের পথও এতে সহজ হবে।
নেপালের সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নেপালি গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বুধবার রাজধানী কাঠমান্ডুর সিংহ দরবারে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বন্যায় নিহতদের প্রতি শোক ও তাদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
নেপাল সরকারের মুখপাত্র এবং শিক্ষা ও ক্রীড়ামন্ত্রী সস্মিত পোখরেল জানান, আহতদের বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আহতদের ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে অবিলম্বে উদ্ধার করার এবং ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য মন্ত্রণালয়টিকে নেপালের সেনাবাহিনী, বেসরকারি হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সম্পদ কাজে লাগানোরও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় দুর্যোগ কমিটিগুলোকে বন্যাদুর্গতদের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশটির পূর্ত মন্ত্রণালয়কে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যায় আপনজন হারানো পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। আর অর্থমন্ত্রীকে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি ও ভৌত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য আর্থিক বরাদ্দ সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নেপালের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ এ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়েছে; ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্রোতে ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জনপদ।
বুধবারের এ ঘটনায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় দেড় হাজার নিখোঁজ রয়েছেন বলে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বৃহস্পতিবারও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
নেপালের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়ে বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, দুর্যোগের সময় রেকর্ড হওয়া ৪ দশমিক ৪ মাত্রার যে ভূমিকম্পের কথা প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, সেটি আসলে হিমবাহের পাথর ও বরফ ধসে পড়া এবং ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকে সৃষ্ট ভূকম্পনজনিত শক্তি।

