নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও ৯৭৭ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের তিব্বত অংশে আরও ৫ জনের মৃত্যুর পর দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ জনে। শনিবার (২৯ আগস্ট) এনডিটিভি জানায়, দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগের পর টানা তিন দিন ধরে চলা অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ইতোমধ্যে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর এটিই নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, একটি হিমবাহ ধসে প্রচুর পরিমাণে বরফ ও ধ্বংসাবশেষ প্রবাহিত হওয়ার ফলে এই প্রলয়ঙ্করি বন্যার সৃষ্টি হয়।
তিব্বত অংশে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর আসার পর নেপাল পুলিশ শুক্রবার নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ধারকর্মী ও নিরাপত্তা সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি একটি হ্রদ উপচে পড়ার উপক্রম হলে চীন সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখে, যা পরবর্তীতে বিপদ কমে এলে আবার শুরু করা হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বন্যা দুর্গত এলাকা থেকে ৮৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন এবং ত্রিশূলি ওয়ান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন উদ্ধার পেয়েছেন। এছাড়া চীন সীমান্তে আটকে থাকা ৯৬ জন ভারতীয় স্থলপথে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন।
মুখপাত্র আরও নিশ্চিত করেন, বর্তমানে প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১০০ জন মানুষের সাথে এখনও কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি

