নেপালে নতুন করে বন্যার উচ্চ সতর্কতা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২৮

নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ায় ত্রিশূলী উপত্যকায় নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপাল সরকার উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্বেগ বাড়ছে। ভূমিধসে তৈরি হওয়া হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ায় সাময়িকভাবে ত্রিশূলী উপত্যকায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। এদিকে, ক্রমে ফুরিয়ে আসছে নিখোঁজদের বেঁচে থাকার আশা। কয়েক ঘণ্টা পর আবার উদ্ধারকাজ শুরু হলেও নতুন বন্যার আশঙ্কা এখনো কাটেনি।

একজন উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘এই বন্যা আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা তৈরি করেছে। আমরা তরুণ হলেও হাঁটাচলা করা ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। তাহলে ভাবুন, এই পরিস্থিতিতে বয়স্ক মানুষদের জন্য কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

গত ২৬ আগস্ট হিমবাহধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় দুই দিনের মধ্যে প্রাণহানি ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ ভারতের তীর্থযাত্রী বলে জানা গেছে। নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

আরেকজন উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি শুধু আমার কর্মীদের খোঁজ করছি। তারা বেঁচে আছে কি না, তাদের কী হয়েছে, সেটা জানতে চাই। আর তাদের পরিবারের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কারণ তারাই পরিবারের মূল ভরসা।’

এদিকে নেপালের নুয়াকোট জেলায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধারকারীদের কাছে থাকা তালিকায় স্বজনদের নাম খুঁজছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির আরেকটি সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তন ও পাহাড়ি পরিবেশের অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

ইত্তেফাক/এসজেএস