হংকংয়ে প্রায় তিন মাস ধরে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন চলছে। দমনের জন্য চীনের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ নিলে তা চীনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিবিসির চীন বিভাগের সম্পাদক হাওয়ার্ড ঝ্যাং বলছেন, হংকং সংকট মোকাবিলায় চীন হস্তক্ষেপের জন্য যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
হংকংবাসীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হলো বিক্ষোভের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে হংকংয়ের অর্থনীতিতে। হংকংয়ের অর্থনীতির প্রায় ২০ ভাগ পর্যটন এবং খুচরা ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। বিক্ষোভের ফলে এই দুটি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হংকংয়ে ২৪ বছর ধরে বাস করা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সৈয়দ ইকরাম ইলাহী বিবিসিকে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের বায়াররা ভীত। ওরা আমাদের ব্যবসা দিতে একটু ভয় পাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা। ওরা দেখছে আমাদের এখানে এরকম সমস্যা চলছে। ওরা চিন্তিত যে আমরা আসলে ওদের মাল ঠিকমত রপ্তানি করতে পারব কিনা। ওরা আমাদের ফ্যাবরিক আর অ্যাকসেসরিসরের অর্ডার দিয়ে থাকেন। আমরা যদি ঠিক সময়মতো ওগুলো রপ্তানি করতে না পারি, তারা তো তাদের গার্মেন্ট শিপমেন্ট করতে পারবেন না।
এই মুহূর্তে উদ্বেগ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ব্যবসায়ীদের নেই বলে জানান ইকরাম ইলাহী। কারণ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তার মতে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ বা হংকং সরকার কোনো কিছুই করতে পারছে না। ছাত্র, সাধারণ মানুষ সবাই এই আন্দোলনে সায় দিয়েছেন। যতদিন পরিস্থিতি শান্ত না হবে, ব্যবসা বাণিজ্য খারাপ থাকবে। শেয়ার সূচকও পড়তির দিকে যা আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ।
ইকরাম ইলাহীর ধারণা, চীন সরাসরি নাক গলাবে না। হংকংয়ে ব্যবসার ক্ষতি হয়, সেটা চীন হতে দেবে না। কারণ চীন ব্যবসার জন্য হংকংয়ের ওপর নির্ভরশীল। পাঁচ বছরের ওপর হংকংয়ে থাকেন বাংলাদেশি গৃহবধূ ফাহমিদা মজুমদার। বিবিসিকে তিনি বলেন, হংকং ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য তো বটেই এমনকি বসবাসের জন্যও শান্তির ও নিরাপদ শহর ছিল। হালের এই বিক্ষোভ তাকে এবং তার মতো সেখানে বসবাসরত বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফাহমিদা মজুমদার বলছেন, হংকংয়ে বাংলাদেশিদের একটা বড় অংশ নানা ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই বিক্ষোভ দীর্ঘায়িত হলে এবং তা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেললে সেটা বাংলাদেশিদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
