চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে রিকশাভ্যান বসিয়ে দোকান দিতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় ফজল আমিন নামে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে নগরীর ওমর আলী মাতবর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ফজল আমিন চট্টগ্রাম নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মামলায় মো. শাহজাহানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। শাহজাহান নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। মামলায় স্থানীয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ফজল আমিনের ময়নাতদন্ত হয়। এ সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শাহজাহান সড়কে রিকশাভ্যান বসিয়ে চাঁদা আদায় করতেন।
পরিবারের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে স্থানীয় বাসিন্দারা বৈঠক করে একটি স্কুলের সামনে রিকশাভ্যান বসিয়ে দোকান না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শুক্রবার আবারও সেখানে একটি রিকশাভ্যান বসিয়ে দোকান দেওয়া হয়।
ফজল আমিনের ছেলে জোবায়ের হক ইনান বলেন, স্কুলের সামনে ভ্যান বসানোর কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচল ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে তার বাবা আবার কেন ভ্যান বসানো হয়েছে, তা জানতে চান।
ইনানের অভিযোগ, এ সময় শাহজাহান ও তার ছেলে তার বাবাকে বুকে ধাক্কা দেন এবং মারধর করেন। তার বাবা আগে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। বুকে ধাক্কা দেওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে ফজল আমিনের মৃত্যু সরাসরি মারধরের কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচলাইশ বিভাগের সহকারী কমিশনার কাজী মো. বিধান আবিদ বলেন, ওমর আলী মাতবর সড়কে ফজল আমিনকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আগে থেকেই তার শারীরিক দুর্বলতা বা কোনো অসুস্থতা ছিল কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সড়কে রিকশাভ্যান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রাস্তায় রিকশাভ্যান না বসাতে ফজল আমিন নিষেধ করেছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে সেখানে চাঁদা আদায় করা হতো কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ফজল আমিন সংগঠনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ওমর আলী মাতবর সড়কে রিকশাভ্যান বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের কথা তারা শুনেছেন।

