রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনগণ রাষ্ট্রের মালিক- এমন প্রত্যয়কে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনের ইশতেহার প্রণয়ন করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আগামী ১৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এই ইশতেহার। এরপর তা পুস্তিকা আকারে সারাদেশে ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য ভোট চাওয়া হবে এতে। পরিবর্তনের জন্য ভোট দিতে বলবে ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলছেন, এবারের ইশতেহার হবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকে। এতে যা থাকছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সরকারি অর্থায়নে দরিদ্রদের শিক্ষা চিকিত্সা ও বাসস্থান, কৃষিপণ্য উত্পাদনে ভর্তুকি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫, চাহিদা অনুযায়ী কোটা সংস্কার, ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমানো, কৃষকের স্বার্থ, কৃষকের উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের কৌশল ইত্যাদি। পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য বন্ধের পরিকল্পনাও থাকছে ইশতেহারে।
গতকাল ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ১৭ ডিসেম্বর ঐক্যফ্রন্টের যে ইশতেহার ঘোষণা করা হবে, তা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। ইশতেহারের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ ও আসন বিন্যাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আপনারা দুই-এক দিনের মধ্যেই জানতে পারবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয় বলে তিনি জানান।
ফখরুল বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পূর্ব-নির্ধারিত ১০ ডিসেম্বরের জনসভা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে জনসভার তারিখ জানানো হবে। সম্ভবত নির্বাচনী প্রচারণার শেষের দিকে এই জনসভা করা হবে। জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিএনপি, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকার আংশিক প্রকাশ করা হবে।
