ইরান সরকারকে প্রচলিত সামরিক উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট। পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
জো কেন্ট ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনার প্রতিবাদ জানিয়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস ও সিআইএতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সামরিক বাহিনীর হয়ে একাধিকবার বিদেশে মোতায়েন হয়েছেন।
এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে না নিলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। এরপর থেকে তিনি বারবার একই ধরনের কঠোর হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি এমনকি বলেছেন, মার্কিন বাহিনী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোও ধ্বংস করতে পারে।
শুক্রবার কার্লসনের অনুষ্ঠানে কেন্ট বলেন, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন যখন সংকট থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছে, তখন এমন পরিস্থিতি একেবারেই অসম্ভব ভাবা বোকামি হবে। তার মতে, মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির পুরো সক্ষমতা কাজে লাগিয়েও ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বারবার বদলে যাওয়া লক্ষ্যগুলোর একটিও অর্জন করা যায়নি।
কেন্ট বলেন, ওয়াশিংটন যদি এখনও ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটিকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, তাহলে দুটি পথই খোলা রয়েছে, পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান অথবা পারমাণবিক হামলা। ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে স্থল অভিযান কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি যদি এভাবে দীর্ঘায়িত হতে থাকে, তাহলে খুব দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে চলে আসবে। তার অনুমান, ওয়াশিংটন তাত্ত্বিকভাবে ইরানের পাহাড়ি অঞ্চলে লুকিয়ে রাখা ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প ও বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা অস্ত্র সংকটের দাবি অস্বীকার করে জোর দিয়ে বলেছেন, পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদের মজুত রয়েছে। তা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন, যাকে তিনি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বলে অভিহিত করেছেন।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। এতে চীনের ২১টি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০টি সংস্থা, ব্যক্তি ও নৌযানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি স্পষ্ট জানান, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের শাস্তির আওতায় এনে ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করাই আমেরিকার মূল উদ্দেশ্য।

