বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে জোড়াতালি না দেওয়ার অবস্থানে শুরু থেকেই অনড় তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বোর্ড সভাপতি স্পষ্ট করে বলে আসছেন, বিপিএল আয়োজন করলে তা যথাযথভাবেই করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পক্ষপাতী নন তারা।
তবে বাস্তবতা হলো, বিপিএলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতাধিক ক্রিকেটারের রুটি-রুজির হিসাব। জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গতকাল বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসে ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর প্রতিনিধিদল। বৈঠকে ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসির হোসেন।
বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা জানাতে পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন নাসির। বিসিবির দেওয়া প্রস্তাবে আপাতত সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'আপাতত আমরা খুশি। আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি এবং বোর্ডের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো নিয়ে আমাদের বিশ্বাস আছে। সামনে আবার বসলে বিষয়গুলোর সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।'
বিপিএল আয়োজন না হলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের গুঞ্জনও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নাসির বলেন, 'প্রথমে বলি, এই ক্রিকেট বোর্ড শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছিল এবং এখনো আছে। বিপিএল কেন হচ্ছে না, বোর্ড সেটা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছে। বিপিএল না হলে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে কিছুটা সমস্যায় পড়বে।'
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের মধ্যে আরও একটি বৈঠক হতে পারে। সম্ভাব্য বিকল্প টুর্নামেন্ট নিয়ে নাসির বলেন, 'সেই জায়গায় বোর্ড কী করতে পারে, মূলত সেটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন খেলায় ব্যস্ত থাকব। বিপিএল যেহেতু প্রায় দেড় মাসের টুর্নামেন্ট, আমরা চেয়েছি সেই সময়ে যদি অন্য একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়, তাহলে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হবে। তবে সেটা হবে কি না, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরের বৈঠকে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।'
এছাড়াও ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নাসির। তিনি বলেন, 'বোর্ড বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। এই বোর্ড মূলত খেলোয়াড়রা পাঁচ-দশ বছর পর কোথায় থাকবে, সেই বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত যেসব প্রস্তাব শুনেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে খুব একটা খারাপ হবে বলে মনে হয় না।'
বিপিএল আয়োজন নিয়ে এর আগে শনিবার ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। সেখানে জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল আয়োজন না করার পক্ষে মত দিয়েছেন একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক। ফলে বিপিএল আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ক্রিকেটারদের আর্থিক দিক বিবেচনায় বিকল্প টুর্নামেন্টের সম্ভাবনা এখন সামনে আসছে।

