রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তারিখ ধার্য করেন। মামলার অপর আসামি রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।
আজ অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে জামিনে থাকা আসামি সরদার মোশাররফ হোসেন শুনানি পেছানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম।
এর আগে একই মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য চারটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিভিন্ন কারণে সেসব তারিখে শুনানি হয়নি।
টিউলিপের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপসহ দুজনের বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আনা অপরাধ আমলে নিয়ে টিউলিপের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন আদালত।
দুদকের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই গুলশান-২ এলাকায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখল ও পরে রেজিস্ট্রি করা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
পরে গত ১১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
এদিকে মামলার তদন্তে আসামি শাহ মো. খসরুজ্জামান চলতি বছরের জুলাইয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগেও ওই স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত স্থগিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মা ও ভাই-বোনদের নামে তিনটি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ইতোমধ্যে টিউলিপ সিদ্দিককে ঢাকার পৃথক একটি বিশেষ জজ আদালত প্রতিটি মামলায় দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

