নতুন বেতন কাঠামোয় পুরোনোদের বেতন কত বাড়বে

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩১

নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়বে। তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের তুলনায় আগে থেকেই চাকরিতে থাকা কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হিসাব হবে কিছুটা জটিল। তাদের বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্ট ও গ্রেড অনুযায়ী নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারিত হবে। ফলে একই গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতনও এক রকম নাও হতে পারে।

নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। নতুন হারে সব ধরনের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এ সময়ের মধ্যে চালু থাকা ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হবে।

অন্যদিকে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৫ শতাংশ এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এসব গ্রেডে নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে। তবে নতুন হারে ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

নবম গ্রেডে বেতন কত বাড়বে
বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেলে নবম গ্রেডের শুরুতে মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ হবে।

তবে পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সরাসরি ২২ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা হবে না। তাদের বর্তমান মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্টের ভিত্তিতে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করা হবে। ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কোনো কর্মকর্তার বেতন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চেয়ে বেশি হতে পারে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী নবম গ্রেডে মূল বেতনের সর্বোচ্চ সীমা হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে।

ঢাকায় কর্মরত নবম গ্রেডের নতুন একজন কর্মকর্তার মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা হলে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে আরও ২২ হাজার টাকা যোগ হবে। চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে তার মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে এটি একটি আনুমানিক হিসাব; চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পরই সুনির্দিষ্ট হিসাব জানা যাবে।

নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সবার বেতন একই পরিমাণ বাড়বে না। কারণ, একই গ্রেডে কর্মরত হলেও চাকরির মেয়াদ ও ইনক্রিমেন্টের কারণে তাদের বর্তমান মূল বেতন ভিন্ন।

এ ছাড়া নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সময় পুরোনো চাকরিজীবীদের জন্য চালু থাকা ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হবে। ফলে নতুন মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি এই সুবিধা বাতিলের প্রভাবও তাদের মোট বেতনের হিসাবের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামোয় স্বল্প আয়ের ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের দ্রুত বেতন বাড়ানোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে পুরোনো চাকরিজীবী ঠিক কত টাকা বেশি পাবেন, তা নির্ভর করবে তার গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত নতুন বেতন নির্ধারণ পদ্ধতির ওপর।

ইত্তেফাক/এসজেএস