পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কাস্টমস হাউসে হামলা ও পরবর্তী নিরাপত্তা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্য ও কাস্টমস বিভাগের এক কর্মকর্তা রয়েছেন। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ২১ সদস্য নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এসব তথ্য জানায়। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইএসপিআর জানায়, ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত বেলুচিস্তানের চাগাই জেলার নোকচা ও পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় পৃথক ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২১ সশস্ত্র সদস্য নিহত হন।
বিবৃতিতে বলা হয়, কাস্টমস হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করে সশস্ত্র সদস্যরা সমন্বিত হামলা চালালে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কয়েক দফা তীব্র গোলাগুলির পর ১০ হামলাকারী নিহত হয়। পরে পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, কাস্টমস হাউসে হামলার সময় দুই কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্য এবং কাস্টমস বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিহত হন। নিহতদের পাকিস্তানের ‘সাহসী সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সামরিক বাহিনী।
হামলার পর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবশিষ্ট সশস্ত্র সদস্যদের শনাক্ত ও নির্মূলের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব অভিযানের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
এর আগে রোববার চাগাই এলাকায় এন-৪০ কুয়েটা-তাফতান মহাসড়কে যাত্রীদের চলাচল ব্যাহত করতে সশস্ত্র সদস্যরা একটি অবৈধ তল্লাশিচৌকি স্থাপন করে বলে দাবি করে আইএসপিআর। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১১ জন নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া সোমবার চাগাই এলাকায় রেকো ডিক তামা ও স্বর্ণ প্রকল্পের যানবহরে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ জন এবং ওয়াশুক জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও দুজন নিহত হন।
পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ এবং বেলুচিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে।

