৪৮ ঘণ্টায় আমার বিরুদ্ধে ১০৯ সংবাদ: সংসদে হাসনাত

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩৭

সংসদে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিয়ে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

অনলাইনে প্রকাশিত এসব সংবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগের সুযোগ না থাকায় বিদ্যমান আইন সংশোধন করা হবে কি না, তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল আইনে মূলত ছাপা সংবাদে প্রকাশিত অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণাত্মক বা অপতথ্যপূর্ণ সংবাদ প্রকাশিত হলে একইভাবে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার সুযোগ নেই।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিয়ে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সংবাদগুলো অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ায় সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। 

বিরোধীদলের সদস্যদের লক্ষ্য করে অনলাইনে অপতথ্য ছড়ানো হলে এ ধরনের ঘটনায় প্রতিকার পাওয়ার উপায় কী—প্রতিমন্ত্রীর কাছে সেই প্রশ্নও রাখেন হাসনাত। একই সঙ্গে অনলাইন সংবাদকে প্রেস কাউন্সিলের আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, শুধু বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরাই অনলাইনে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বিষয়টি এমন নয়। নারী, সরকারি দলের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদেরও অনলাইনে আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন সংবাদকেও প্রেস কাউন্সিলের আওতায় আনার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য কীভাবে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও সংসদে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এমএসআর