কুমিল্লার দেবিদ্বারে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) চুক্তিভিত্তিক ঋণদান কর্মী শাহ জাহান আলীর বিরুদ্ধে শতাধিক হতদরিদ্র গ্রাহকের সঞ্চয় ও এফডিআরের প্রায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত শাহ জাহান আলী ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শড়াতলা স্কুলপাড়ার বাসিন্দা মো. লিয়াকত আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেবিদ্বার পৌরসভার মোল্লাবাড়ি এলাকার একটি ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন।
টাকা ফেরত পেতে দেবিদ্বার উপজেলা পিডিবিএফ কার্যালয়ে প্রতিদিন ধর্না দিচ্ছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে পিডিবিএফের কার্যালয়ে আসেন মাশিকাড়া গ্রামের মাসুম, ভূষণা গ্রামের সাক্কুম মিয়াসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী। কার্যালয়ে এসে তারা জানতে পারেন, শাহ জাহান আলীর সঙ্গে অফিসের কারোও যোগাযোগ নেই। পরে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বলেন, ‘শাহ জাহান আলী আমাদের কাছ থেকে নিয়মিত সঞ্চয় ও ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই কাজ করছিলেন। তিন মাস ধরে শাহ জাহান আলীর ফোন নম্বর বন্ধ পাই। এরপর আমরা অফিসে যোগাযোগ করি, অফিসের লোকজন এখন বলতেছে শাহ জাহান আলী নাকি চুক্তিভিত্তিক ঋণদান মাঠকর্মী ছিলো, তাদের অফিসের নিয়োগ করা ব্যক্তি নয়। এখন আমাদের কাছ থেকে সে প্রতি মাসে কিস্তির টাকা নিয়ে আসছে কিন্তু অফিসে জমা দেয়নি। পরে হিসাব মেলাতে গিয়ে অফিস জানতে পারেন, তাদের জমা দেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।’
ভূষণা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মো. কাশেম মিয়া বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। এখানে অধিকাংশ গ্রাহক শ্রমিক, তারা অল্প অল্প করে টাকা জমা রাখতেন। শাহ জাহান আলী আমাদের কাছে মাঠকর্মী হিসেবে বিশ্বস্ত ছিলেন এখন সে আমাদের সবার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা পাওনা টাকার জন্য অফিসে বারবার যোগাযোগ করেছি কিন্তু কেউ সমাধান দিতে পারছে না।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহ জাহান আলীর মোল্লাবাড়ির ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, শাহ জাহান আলী পরিবার নিয়ে যে কক্ষে থাকতেন, তা তালাবদ্ধ। বাড়ির মালিক মোসা. রাশেদা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত তিন মাস ধরে শাহ জাহান আলী পরিবারসহ নিখোঁজ রয়েছেন। তার কাছে মোট তিন মাসের ভাড়া পাওনা। এখন তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে। পরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পত্রিকায় সন্ধান চাই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।
এ বিষয়ে পিডিবিএফের দেবিদ্বার উপজেলা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শাহ জাহান আলী চুক্তিভিত্তিক ঋণদান মাঠকর্মী হিসেবে এ অফিসে কাজ করতেন, দায়িত্ব পালন করতেন। আমরা এ অফিসে গত আট মাস আগে নিয়োগ পেয়েছি। এ আট মাসে দেখেছি তিনি অফিসের নানা কাজ করতেন বিশ্বস্ততার সঙ্গে। তিনি এমন কাজ করবেন আমরা কখনোই ভাবিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহ জাহান আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) কুমিল্লা জেলার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শাহ জাহান আলী গ্রাহকের প্রায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না, তবে ওর বাবা জেলা অফিসের আমাদের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এখন ওনার বাবা যদি এগুলোর সুরাহা করেন তাহলে তো আর কথা নেই। তবে আমাদের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা এখনও মামলা মোকাদ্দমা যাইনি। প্রধান কার্যালয় যদি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আপনারা জানতে পারবেন

