জাল জন্মসনদে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগে এক আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় আদালতের অর্ডার শিটে কাটাকাটি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে গোবিন্দগঞ্জ আদালতে এ-সংক্রান্ত আদেশ পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও হকিকুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলাম রিপন, জিআর মো. হাসান আলী এবং তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য মো. আব্দুস সবুর।

ঘটনার সূত্রপাত সাইবার অপরাধসহ একাধিক মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তারের পর। পুলিশ হ্যাকার পলাশ রানা, সুমন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হককে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বজনরা আসামিদের জামিন করতে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের দারস্ত হোন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর তিনটি মামলায় ওই চারজনকে শিশু দেখিয়ে জামিনের ব্যবস্থা করা হয়। এ ঘটনায় আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। পাশাপাশি আদালতের নথি গায়েব এবং অর্ডার শিটে পরিবর্তন করার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসে।

পরে আদালতের কয়েকজন আইনজীবী চার আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোবিন্দগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসানকে। তিনি গত ১৯ আগস্ট শিশু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, তার মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধন বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তৎকালীন জিআরও আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে বিচার বিভাগের জন্য একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশু আদালতের বিচারক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চসহকারীকে বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করতে বলা হয়েছে।

এদিকে গাইবান্ধা জেলা অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, একই ঘটনায় অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলাম রিপনের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের এডহক কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সেকেন্দার আজম আনাম।

গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও হকিকুল ইসলাম বলেন, জাল জন্মসনদ ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর ঘটনায় আদালত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, এখনও আদালতের আদেশ পাওয়া যায়নি। আদেশ পেলে আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
ইত্তেফাক/এসজেএস