শুধু বক্তৃতা নয়, কাজ দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে: ধর্মমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫

শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও মন জয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এসময় হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসে আয়োজিত ‘সরকারি মাধ্যমের হজ গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু নিবন্ধন বা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজিদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই হজ ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য নিহিত।

তিনি বলেন, বিগত হজের ব্যবস্থাপনার বড় অংশ আগের সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়। নিবন্ধন ও সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি রুটিন কাজ। হাজিদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।

ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ ব্যবস্থাপনার মূল কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। রিয়াদে সৌদি হজ মন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি হজ মন্ত্রী বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।

ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হাজিদের জন্য ১ লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং এবং নারী হাজিদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো হাজির লাগেজ হারায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশি হাজিদের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমান, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাজিদের সেবা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি নিজেকে জনগণের ‘খাদেম’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজে যাওয়ার ফ্লাইটের শেষ দিনে হজ ক্যাম্প প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পর এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা তাকে ফোন করে জানান, ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন নারী ও একজন পুরুষ হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে না পেরে কান্নাকাটি করছেন। মন্ত্রী নিজ থেকে টিকিটের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনএসআই কর্মকর্তাকে দ্রুত ওই যাত্রীদের নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। 

তিনি বলেন, সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দুই হজযাত্রীকে নিরাপদে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয়।

হজ গাইডদের দায়িত্বশীলতা ও সেবার মান আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গাইডদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য তাদের পুরস্কৃত করার সুযোগ বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার হজ গাইডদের কঠোর পরিশ্রম ও হাজিদের সেবায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, হজ গাইডদের সম্মাননা তাদের সেবার তুলনায় খুবই সামান্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। আগামী হজ আরও সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ লাগেজ ব্যবস্থাপনা, গুরুতর অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের হজে যাওয়ার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। গত বছরের অব্যবহৃত অর্থ হাজিদের ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে বলে তিনি জানান।

স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও হজ গাইডদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) (অতিরিক্ত সচিব) এস এম লাবলুর রহমান, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারোয়ার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ওয়াক্‌ফ প্রশাসক (সচিব) সাফিজ উদ্দিন আহমেদ, হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে সরকারি মাধ্যমের হাজেদের সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮ জন হজ গাইডকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

 
ইত্তেফাক/এমএস