ভারতের উত্তরাখণ্ডে বন্ধ হচ্ছে মাদ্রাসা, ইতোমধ্যে ১৭টি সিলগালা

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪

ভারতের উত্তরাখণ্ডে অনুমোদন ও নির্ধারিত শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজ্যটিতে ২০টি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সিলগালা করা হয়েছে এবং বাকি তিনটির কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এতে বলা হয়েছে, উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন ও হালদাওয়ানিতেও প্রশাসনের অভিযান বিস্তৃত হয়েছে।

রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, নির্ধারিত স্বীকৃতি ও শিক্ষার মানদণ্ড পূরণ না করা মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নিয়ম ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ অভিযানে দেহরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আজাদ কলোনির মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়াকে সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম ও মাজরার মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে হালদাওয়ানিতে দুটি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। এগুলো হলো গৌজা জালি নর্থের শনি বাজার রোডের মাদ্রাসা জামিয়া নুরিয়া বারকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের একটি অননুমোদিত মাদ্রাসা। প্রয়োজনীয় স্বীকৃতির নথি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর আগে গত জুলাইয়ে উত্তরাখণ্ড সরকার রাজ্যের আইনগত মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করে। নতুন এ ব্যবস্থার অধীনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান, শিখ, পারসি, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এর আওতায় রয়েছে।

সরকারের নতুন ব্যবস্থায় আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম ও স্বীকৃতি ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যারা নির্ধারিত আইন ও নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামো চালুর আগে উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা বোর্ডের স্বীকৃত ৪৫২টি মাদ্রাসা ছিল। এর আগে স্বীকৃতির জন্য আবেদন না করা ২০০টির বেশি মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করা হয়েছিল।

এদিকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার মান নির্ধারণের বিষয়ে ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের একটি মামলায় আদালত জানিয়েছিল, সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার থাকলেও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।

সূত্র: দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 
ইত্তেফাক/এসএ