চট্টগ্রামের রাউজানে সড়ক পারাপারের সময় ইটবোঝাই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মো. নুরুল ইসলাম টিটু (৫৫) নামে এক ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের জলিল নগর আমানিয়া হোটেলের বিপরীত পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নুরুল ইসলাম টিটু বিনাজুরী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লেলেঙ্গারার অছি মিয়া সাংরায়ের বাড়ির আনজু মিয়া সারাংয়ের ছেলে। তিনি একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের রাউজান জোনাল অফিসের অধীন বিনাজুরী শাখায় ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নুরুল ইসলাম টিটু সড়ক পার হয়ে আমানিয়া হোটেলের দিকে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ইটবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এতে মাথা ও পায়ের অংশ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট দূরে সড়কের ওপর পড়ে ছিল। শরীরের মাঝের অংশটিও ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটি আটক করা গেলেও চালক পালিয়ে যায়।
এই দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। রাউজান থানা ও হাইওয়ে পুলিশের প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পরে পৌনে ২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় তীব্র রোদের মধ্যে আটকা পড়া যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের রাউজান মডেল শাখার জোনাল ম্যানেজার সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘নুরুল ইসলাম টিটু একজন গ্রাহকের বোনাসের ফাইল জমা দিয়ে অফিস থেকে বের হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর জানতে পারি, আমাদের একজন কর্মকর্তা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। পরে আমরা সবাই নিচে নেমে অফিস থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে সড়কের ওপর পলিথিনে ঢাকা তার মরদেহ দেখতে পাই। পরনের শার্ট ও চেহারার অংশবিশেষ দেখে আমরা মরদেহ শনাক্ত করি। পরে তার বাড়িতে আমাদের একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে স্ত্রীকে খবর দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে টিটুর এক ভাগ্নিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসে জানতে চান, আমার মামাকে চিনেছেন? এটা কি আমার মামা?
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে টিটু স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে ট্রাকের নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ তথ্য প্রত্যাখ্যান করে সুজন বড়ুয়া বলেন, টিটু অফিসের কাজ শেষ করেই বের হয়েছিলেন। এমন কোনো ঘটনার কথা তারা জানেন না।
অন্যদিকে, সড়কের দুই পাশে অবৈধ ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অবরোধ তুলে নিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে আসা রাউজান পৌরসভা যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে ট্রাক, বাস ও অটোরিকশা যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা হয়। এতে চার লেনের মহাসড়ক কার্যত দুই লেনে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আজও একই কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের তেমন কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন, রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ও রাউজান হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শুভ্র সরকার ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, সড়ক পারাপারের সময় নুরুল ইসলাম টিটু (৫৫) নামে বিনাজুরী ইউনিয়নের একজন সাবেক ইউপি সদস্য ইটবোঝাই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করলে রাউজান থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এর আগেও একাধিকবার কথা বলা হয়েছে। তারা সাময়িকভাবে গাড়ি সরিয়ে নিলেও পরে আবার সড়ক দখল করে পার্কিং করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

