‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫৮

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’—সংবাদ সম্মেলনে বুকফাটা কান্নায় এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের কাপড় বিক্রেতা হোশেন আলী। দেড় মাস ধরে তার ১২ বছরের ছেলে মো. আলী নিখোঁজ রয়েছে। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাকে তিন দিন ধরে ঘুরতে হয়েছিল বলে অভিযোগ এই পিতার।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘জিরো মিসিং চিল্ড্রেন’ আয়োজিত ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এমন বহু হৃদয়বিদারক চিত্র উঠে আসে। নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবিতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৩৮ জন শিশু।

সংবাদ সম্মেলনে সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিখোঁজ চার বছরের শিশু যাদব কর্মকারের মা বাসনা কর্মকার অভিযোগ করেন, ফোনে হুমকি পাওয়ার পর সন্দেহভাজনদের সুনির্দিষ্ট তথ্য পুলিশকে দেওয়া হলেও তদন্তে কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। একইভাবে কামরাঙ্গীরচর থেকে ১১৫ দিন ধরে নিখোঁজ তিন বছরের শিশু সামিয়ার পরিবার জানায়, টিকটকে শিশুটিকে ‘মিঠাই’ নামে দেখা যাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মামলা ডিবি ও পরে পিবিআইতে গড়ালেও আজও মেলেনি সন্তানের সন্ধান।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, অনলাইনে জিডির ব্যবস্থা রয়েছে এবং কোনো জিডি প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই শিশু হওয়ায় প্রেম করে বা অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনাই নিখোঁজ জিডিতে আসে বলে জানান তিনি। পুলিশের অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি শিশু নিখোঁজের বিষয়টির প্রতিও যথেষ্ট সংবেদনশীলতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত এবং শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

ইত্তেফাক/এএম