ট্যানারির কাছে কাঁচা চামড়া বিক্রি শুরু

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩৯

নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে গতকাল সোমবার থেকে ট্যানারিগুলোর কাছে কাঁচা চামড়া বিক্রি শুরু করেছেন আড়তদার ও কাঁচা চামড়ার পাইকাররা। পুরান ঢাকার পোস্তা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকার মজুত চামড়াও আসতে শুরু করেছে ট্যানারিগুলোর কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গতকাল থেকে বিক্রি শুরু হলেও পুরোদমে বিক্রি শুরু হতে আরো সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। মানসম্পন্ন চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে বলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে।

কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড এন্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি হাজী দেলোয়ার হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আজ (গতকাল সোমবার) থেকে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। কিছু কিছু বিক্রিও হচ্ছে। পোস্তা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চামড়া আসতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করছি। এছাড়া কাঁচা চামড়া লবণ দেওয়ার পর তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ফলে আগামী দুই-আড়াই মাস পর্যন্তই বেচাকেনা চলবে বলে জানান তিনি।

অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদার ও পাইকারদের পাওনা বকেয়া  টাকা পরিশোধের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ঐ বৈঠকে পাওনার বিষয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন কোনো কোনো কাঁচা চামড়ার বিক্রেতা। বৈঠকে তাদের বকেয়া অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তার পর পুরোদমে বিক্রি শুরু হতে পারে।

ট্যানারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, কাঁচা চামড়ার বেচাকেনা চলছে। পোস্তা ছাড়াও নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে চামড়া আসছে। তবে কিছু চামড়ার মান প্রত্যাশিত মাত্রায় নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো মানের চামড়া সরকার নির্ধারিত দরের চেয়েও বেশি দর দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব চামড়ার মান কমে গেছে সেগুলোর দাম কিছুটা কম। সব মিলিয়ে গড়ে সরকার নির্ধারিত দরেই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গত কয়েক বছর ধরে সরকার লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দর কমিয়ে নির্ধারণ করে দিয়ে আসছিল। তবে এবার চামড়ার দরে নজিরবিহীন পতন ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত ঐ সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটা সরে এসেছে। ইতিমধ্যে শিল্পমন্ত্রী জানিয়েছেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অল্প কিছু কমপ্লায়েন্ট ট্যানারি মালিক বাদে বাকিদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়ার বকেয়া অর্থ পাওনা রয়েছেন পাইকার ও আড়তদাররা। চামড়া রপ্তানির সুযোগ না থাকায় ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটের কাছে অনেকটা জিম্মি ছিল এসব ব্যবসায়ী। এ কারণে চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দর না পেয়ে বঞ্চিত হতো মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ সমাজের গরিব-মিসকিন ও প্রান্তিক শ্রেণির সুবিধাভোগীরা।

দেশে যে পরিমাণ চামড়ার যোগান আসে, তার অর্ধেকের বেশি আসে এই সময়ে; কিন্তু চামড়া শিল্পকে পরিবেশবান্ধব করার চেষ্টা করা হলেও এতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি মেলেনি এখনো। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ট্যানারি মালিকরা একে অপরকে দুষছেন। এসব কারণে গত দুই বছর ধরেই চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমতির দিকে। গত বছরের অর্ধেক চামড়া এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে বলে ট্যানারি মালিকরা বলে আসছেন।