ফরিদপুরে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে কুপিয়ে হত্যার দায়ে দুই তরুণকে পৃথক দুই ধারায় মোট ১৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আলামত নষ্টের দায়ে পৃথকভাবে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর জেলা শিশু আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আসামিদের একটি সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই অন্য সাজার মেয়াদ কার্যকর হবে। অপরাধ সংঘটনের সময় আসামিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় তাদের বিচার কার্যক্রম শিশু আদালতে পরিচালিত হয়। তবে রায় প্রদানের সময়ে তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় জেলা কারাগারের সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই সাজা খাটার নির্দেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় উপস্থিত দুই আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ (৪৪) পেশায় অটোভ্যান চালক ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জীবিকার তাগিদে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। নিখোঁজের পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাইনবোর্ড এলাকার একটি মেহগনি বাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
এ ঘটনার পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি নিহতের স্ত্রী রহিমুন বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফাহিম ফয়সাল তরফদার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংশ্লিষ্ট দুই কিশোরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান, কেবল একটি ভ্যান ছিনতাইয়ের লোভে চালককে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা অত্যন্ত বর্বরোচিত। কিশোর অপরাধীদের মাধ্যমে সংঘটিত এমন অপরাধ সমাজের জন্য অশনিসংকেত। আদালতের এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

