যানজটের নগরী রাজধানী ঢাকায় প্রাইভেট গাড়ি বা লোকাল বাসে চড়ে জ্যামে বসে থাকতে থাকতে যাত্রীরা যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন দুই চাকার সাইকেল চালিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছা সত্যিই আজকাল গর্বের ব্যাপার। কেননা সাইকেল এমন একটি বাহন যাকে প্রয়োজনবোধে হাতে নিয়েও পাড়ি দেওয়া যায় এ শহরের অলিগলির অনেক দুঃসাধ্য পথ। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যবস্থাটিও যেন নাকাল হওয়ার পথে। যানজট এখন এতটাই ভয়ানক রূপ নিয়েছে যেখানে সাইকেল আরোহীকেও লোকাল বাসের সঙ্গে অসাড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আধুনিকতার স্পর্শে উন্নত দেশের মতো রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা ঢাকা শহরের মানুষের মাঝে এনে দিয়েছে কিছুটা স্বস্তি। বিশেষ করে যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেল নেই তাদের একমাত্র ভরসা এখন রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো। কিন্তু যেখানে বাইসাইকেলের মতো সাধারণ বাহন চলাচলের অযোগ্য সেখানে মোটরসাইকেল কতটা ভূমিকা রাখতে পারছে তা সহজেই অনুমেয়।
সায়েদাবাদ থেকে আজিমপুর, এই স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতে একজন মানুষের যেখানে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়ে যায় সেখানে সে নাগরিক রাষ্ট্রকে কি-ই বা দিতে পারবে। সর্বোপরি, তার জীবনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সময় ব্যয় হয়ে যায় এ বদ্ধ শহরের রাস্তাঘাটে।
রাজধানীতে পিক আওয়ারে একটি যানবাহন ঘণ্টায় গড়ে সর্বোচ্চ পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। যা একজন মানুষের হাঁটার গতি থেকেও অনেক কম। অথচ একটি সাইকেল লেন থাকলে সেখানে খুব কম সময়ে মানুষ তাদের গন্তব্যে পৌঁছে যেত এবং বেঁচে যেত লাখ লাখ কর্মঘণ্টা। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হতে পারে নারী বা বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী কি সাইকেলে যাতায়াত করতে পারবেন? পারবেন না, তবে এটা সত্য যে কমপক্ষে ২০ শতাংশ মানুষ, বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন পেশার লোকজন খুব সহজেই সাইকেল বা মোটরসাইকেল তথা দুই চাকার যানে চড়ে পৌঁছাতে পারবে নিজ নিজ কর্মস্থলে। এতে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চাপ থেকে মুক্তি পাবে পাবলিক বাসগুলো এবং লোকাল বাস ও প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যাও কমে আসবে উল্লেখযোগ্য হারে।
ঢাকা শহরের অলিগলির মতো প্রধান সড়কগুলোও যানজটে জরাকীর্ণ। প্রধান সড়কগুলোর কোথাও কোথাও বিশাল অঙ্ক জুড়ে আছে ময়লার ভাগাড়। আবার কোথাও হকারদের দখলে কিংবা অবৈধ পার্কিংয়ে প্রধান সড়কগুলোর অবস্থা আজ মৃতপ্রায়। সড়কের এসব জায়গা অবমুক্ত করে যদি প্রতিটি প্রধান সড়কে একটি করে সাইকেল লেনের ব্যবস্থা করা যায় তবে তা হবে ঢাকা শহরের চলমান যানজট নিরসনের যুগোপযোগী মডেল। ফলে একদিকে যেমন নগরবাসীর জীবনে স্বস্তি আসবে, অপরদিকে বেঁচে যাবে লাখ লাখ কর্মঘণ্টা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আমরা দেখি মানুষ সময়ের কতটা মূল্য দিচ্ছে। আর আমাদের সময়গুলো নষ্ট হয়ে যায় যানজট নামক মহামারির করাল গ্রাসে। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে যদি এমন একটি বিশেষ পদক্ষেপ গৃহীত হয় তাহলে দেশ ও নগরবাসীর জন্য তা খুবই মঙ্গলজনক হবে। তা না হলে একসময় যানবাহনের চাকার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চাকাও অসাড় হয়ে পড়বে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ
